কাবুলের মাটিতে এ যেনো মক্কা বিজয়ের প্রতিধ্বনি

0
29
তালেবানের বিজয়

লক্ষ্য করে দেখবেন ২০ বছরের দীর্ঘ ধৈর্যের পরীক্ষা শেষে খুবই সতর্কভাবে তালেবান তাদের চুরান্ত লড়াই চালিয়েছে। কোনোভাবেই যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে দিকে মূল দৃষ্টি দিয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী চুরান্ত আক্রমনের আগে শেষ সুযোগ দিয়েছে ফলে দেশের অনেকগুলো প্রাদেশিক রাজধানী বিনা যুদ্ধেই বিজিত হয়েছে। আফগানের পুতুল সরকারের যে সকল পুলিশ,সেনাবাহিনী সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে তাদেরকে বিনা বিচারে নিঃশর্ত ক্ষমা করেছে। অথচ তাদের হাতেই বহু তালেবান মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতিত ও নিহত হয়েছে। কথিত সাংবাদ মাধ্যম নামক হলুদ জগতের জন্য গতকাল ছিল হতাশার দিন, আফগানের স্বাধীনতা যোদ্ধা তালেবানের বিপক্ষে এত দিন ধরে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। আশায় ছিল অন্তঃত রাজধানীর দখল নিতে এলে আমেরিকার পুতুল রাজ আশরাফ গানীর বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হবে সেখান থেকে কিছু ফুটেজ নিয়ে তালেবানকে বর্বর ও জঙ্গির তকমা লাগাবে। ওরা ভেবেছিল আমেরিকা-ইসরাইলের গঠিত আইএস এর মতো বর্বরতা চালাবে। কিন্তু ওরা জানেনা ইমারাতে ইসলামিয়্যার মহান মুজাহিদরা আইএস-কে হৃদয়ে ধারণ করেনা তাদের নেতা হলো সাইয়্যেদুল মুরসালীন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সঃ। তাদের যুদ্ধ নীতি মাদীনা ওয়ালার কাছ থেকেই এসেছে। তাদের বিজয়ের প্রেরণাও সেখান থেকেই এসেছে। ইমারাতে ইসলামিয়্যার সৈন্যদের ধৈর্য্য ও মহানুভাবতা বিশ্বকে অবাক করেছে। বিদেশী মদদে পরিচালিত সরকার ও তার সহযোগী যে সমস্ত রাজাকারেরা ২০ বছর ধরে আফগানের ইমারতে ইসলামিয়্যার সৈন্য,নেতা,কর্মীদের অত্যাচার,খুন,জেল,জুলুম ও অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে তাদেরকে সামান্য বিচার না করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। বিশ্বের সর্বত্র এমনকি কথিত গণতন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমেও ক্ষমতার পালাবদল হলেও সদ্য ক্ষমতা হারানো ব্যক্তিদের উপরে হামলার ঘটনা স্বাভাবিক মনে করা হয়। অথচ গতকাল ইমারতে ইসলামিয়্যার সদস্যরা দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে যখন রাজধানীতে প্রবেশ করলো কোথাও খুন তো দুরে থাক একটু যখমের খবরও আসেনি। লুট তরাজ ও প্রতিশোধতো দুরে থাক উল্টো উচ্চ আওয়াজে জানানো হলো সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা। তালেবান মোজাহিদদের নিষেধ করা হলো বন্দুক থেকে গুলি ছুড়ে বিজয়োল্লাস করতে। মোল্লা বারাদার স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশ্বের সকল পারাশক্তির মোকাবেলায় সামান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম চার ভাগের একভাগ সৈন্য নিয়ে বাহ্যিকভাবে আমরা ছিলাম দূর্বল, আমাদের শক্তি সঞ্চার করেছেন আল্লাহ কাজেই বিজয়োল্লাস বা অহমিকা প্রদর্শন নয় বরং আল্লাহর শুকরিয়ায় তার কদমে লুটিয়ে পর। তারাও বিজয় উদজাপন করেছে তা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রব্বে কারীমের কুদরতি কদমে সিজদা দিয়ে। ১৪৪৩ হিজরিতে এসে বিশ্ব শান্তিপূর্ণ রক্তপাতহীন রাষ্ট্র বিজয়ের সাক্ষ্যি হলো। কাবুলের মাটিতে এ যেনো মক্কা বিজয়ের প্রতিধ্বনি।

তালেবানের বিজয়

উসমানী খেলাফতের বিলুপ্তির পরে নেতৃত্ব হীন মুসলিম উম্মাহ আবার অভিভাবক পেতে যাচ্ছে। বিশ্ব আবার শুনবে আমীরুল মু’মেনীন উপাধি দেখবে তার ন্যায়পরায়নতা। খেলাফত প্রতিষ্ঠার চুরান্ত মূহুর্তকে বরণ করে বুকে আগলে রাখতে উদগ্রীব আফগানের মাটি। বিশ্বের কোনো রাজনৈতিক নেতা,কর্মী কিংবা কথিত মানবাধিকারের ফেরিওয়ালাদের কেউকি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন তালেবানের মতো এতো নির্যাতনের স্বীকার হয়ে এভাবে ক্ষমতায় এলে আপনি কি প্রতিশোধ না নিয়ে, এমনকি বিচার না করে নিঃশর্ত ক্ষমা করতে পারতেন ? বা কেউ পেরেছে! এমন একটি দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবেন? পারবেন না। কিন্তু মক্কা বিজয় থেকে শুরু করে কাবুল বিজয় পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে এর বহু দৃষ্টান্ত আছে এই ইসলামি রাজনীতি বা খিলাফতের সৌন্দর্য। ওহে কথিত সংবাধ মাধ্যম! আফগানের ইমারতে ইসলামিয়্যার সৈন্যদের মহানুভবতা দেখেও না দেখার ভান করছেন। কিন্ত বিপরিতে আজ তালেবান না হয়ে যদি কোনো বামপন্থি দল এভাবে জনসমর্থন নিয়ে বিজয় লাভ করতো। তাহলে কি এভাবে এড়িয়ে যেতে পারতেন? কখনোই না বরং তাদের নিয়ে পত্রিকায় ক্রোর পত্র ছাপাতেন। আপনাদের এই দ্বিচারিতাই আপনাদের রংটা হলুদ করে দিয়েছে। যা হোক আমি আমার কথা বলি, গত জুলাইয়ের ২৮ তারিখে আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম তখন সংবাদ পাচ্ছিলাম তালেবানের একেরপর এক বিজয়ের। হাদীস থেকে জেনেছি অসুস্থ অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। তাই আল্লাহর কাছে তাদের দ্রুত বিজয়ের মিনতি করেছিলাম এই ভেবে আমি মারাগেলে হয়তো পৃথিবীর বুকে বহুল প্রতিক্ষিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার সাক্ষ্যি হতে পারবোনা । জানি শুধু আমি না বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিমরা জায়নামাজে আফগানের মাজলুমদের জন্য দোয়া করেছে। এমনকি আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মানত (নিয়্যত) করেছিলাম দ্বীন জারি কায়েমের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি তহবিল “মোয়ামালাত টেবিল ব্যাংক” এ। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে শেফা দান করেছেন একই সাথে সেই হাড়ানো গৌরব ও ঐক্যের সেতু বন্ধন খেলাফত প্রতিষ্ঠার বিজয় অভিযানের সাক্ষি হওয়ার আমাকে সেই সৌভাগ্য দিয়েছেন তাই অগণিত শোকর ও সুজুদ রব্বে কারীমের দরবারে। আমাদের দোয়া যুগযুগান্তর টিকে থাক ইমারাতে ইসলামিয়্যা। বাংলাদেশ সহ সকল মুসলিম বিশ্ব বুকে টেনেনিক ইমারতে ইসলামিয়্যার নেতৃত্ব ও জনতাকে। ইমারতে ইসলামিয়্যা জিন্দাবাদ। আল্লাহর বানীকে স্মরণ করছি – وَقُلۡ جَآءَ ٱلۡحَقُّ وَزَهَقَ ٱلۡبَٰطِلُۚ إِنَّ ٱلۡبَٰطِلَ كَانَ زَهُوقٗا বলুনঃ সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। -Surah Al-Isra’, Ayah 81 মাওঃ তানভীর হাসান আল-মাহমুদ পরিচালক,হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)