যে সমস্ত কারণে রোজা ভঙ্গ হয় এবং শুধু কাজা ওয়াজিব হয়

0
768

১। কুলি করিবার সময়ে হঠাৎ পেটে পানি ঢুকিয়া গেলে।
২। নাকের ছিদ্রপথে কোন জিনিস পেটে প্রবেশ করিলে।
৩। দাঁতের ফাঁক হইতে চনাবুট পরিমাণ কোনকিছু বাহির করিয়া খাইলে।
৪। মুখ ভরিয়া বমি আসিয়া অনিচ্ছায় পেটে ফিরিয়া গেলে।
৫। সামান্য পরিমাণ বমি আসিলে ইচ্ছাপূর্বক উহা গিলিয়া ফেলিলে।
৬। ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরিয়া বমি করিলে। [কুদুরী]
৭। ভুল মে পানাহার বা সহবাসকরিবার পর রোজাভঙ্গ হইয়াছে মনে করিয়া পুনরায় কিছু পানাহার করিলে।
৮। রোজার নিয়্যাত ছাড়া রোজা রাখিয়া স্বেচ্ছায় উহা ভঙ্গ করিলে। যথা যে ব্যক্তি রোজার নিয়্যাত না করিয়াই ভোর করিয়াছে। এরপর আহার করিয়াছে তাহার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হইবে না। [হেদায়া]
৯। নিদ্রিত অবস্থায় কেহ কোন বস্তু খাওয়াইয়া দিলে।
১০। পেটে বা মাথার ক্ষতস্থানে লাগানো ঔষধ পেটে বা মস্তিস্কে ঢুকিলে।
১১। কানে তরল ঔষধ প্রয়োগ করিলে তাহা কানের ভিতর চলিয়া গেলে।
১২। রাত বাকী আছে মনে করিয়া সুবহে-সাদেকের পর সাহরী খাইলে অথবা স্ত্রী সহবাস করিলে।
১৩। সূর্যাস্ত হইয়াছে মনে করিয়া সূর্যাস্তের পূর্বে ইফ্তার করিয়া ফেলিলে।
১৪। স্ত্রীকে চুম্বন, স্পর্শ, একত্রে মিলিতভাবে শয়ন,মুসাফাহা এবং মু’আনাকা করার পর বীর্য নির্গতহইলে[কুদুরী]
১৫। পায়খানার রাস্তা বা যৌনপথ ব্যতিত অন্য কোন উপায়ে যদি কেহ সহবাস করে আর তাহাতে বীর্য নির্গত হইলে। [কুদুরী]
১৭। নিজ হাতে বা স্ত্রীর হাতে লিঙ্গ হেলানের কারণে যদি বীর্যপাত হয়। [আলমগীরি]
১৮। রোজাদার ডুশ ব্যবহার বা হাপানীর প্রকোপ নিরসনের জন্য গ্যাস জাতীয় ঔষধ ব্যবহারের দ্বারা রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে। [কুদুরী]
১৯। স্ত্রী লোকের যৌনাংগে ঔষধ দিলে।
২০। রোজাদার ব্যক্তিকে জোরপূর্বক কোন কিছু আহার করানো হইলে।
২১। কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার সময় রোজার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও অসতর্কতাবশত পেটে পানি প্রবেশ করিলে।
২২। রোজাদারের প্রতি কোন কিছু নিক্ষেপ করার পর তা তার গলায় প্রবেশ করিলে।
২৩। ডুব দিয়া গোসল করিবার সময় হঠাৎ নাক বা মুখ দিয়া পানি গলার মধ্যে প্রবেশ করিলে।
২৫। রোজা অবস্থায় পাথর, লোহা বা শিশার টুকরা বা ফলের আটি বা এই জাতীয় কোন বস্তু গলাধঃকরণ করিলে যা সাধারণত খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় না বা ঔষধরূপেও সেবন করা হয় না। [কুদুরী]
২৬। অন্যকে খাওয়ানোর জন্য কেউ যদি খানা চিবায় এবং তা যদি মুখের ভেতর চলিয়া যায় তাহা হইলে রোজা ভঙ্গ হইবে।
২৭। সাহরীর লোকমা মুখে রহিয়া গেলে এবং ফজর উদিত হইবার পর তাহা গলধঃকরণ করিলে তাহার রোজা ভঙ্গ হইবে।
২৮। অন্যের থুথু গলাধঃকরণ করিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
২৯। যদি লালা মুখ থেকে থুতনি পর্যন্ত প্রবাহিত হইয়া যায় এবং এর যোগসূত্র মুখ হইতে ছিনড়ব হইয়া গেলে এবং তা গলাধঃকরণ করিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩০। রক্ত পান করিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩১। দাঁত হইতে রক্ত বাহির হইয়া হুলকুমে ঢুকিলে রক্তের পরিমাণ থুথুর চাইতে বেশী হইলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩২। রেশমের রঙ্গের কাজ করিবার সময় যদি রেশম মুখের ভেতর ঢুকে এবং মুখের থুথু রঙ্গিন হইয়া যায় তবে এ থুথু গলধঃকরণ করিলে এবং এ সময় রোজার কথা স্মরণ থাকিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৩। বৃষ্টি বা বরফের পানি গলার ভিতর ঢুকিলেও রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৪। রোযা অবস্থায় চোখের পানি যদি বেশী পরিমাণ মুখে ঢুকে এবং সম্পূর্ণ মুখে এর লবণাক্ত স্বাদ অনুভুত হয় তাহা হইলে আর সেই পানি গিলিয়া ফেলিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৫। নাকে নস্য গ্রহণ করিলে ও কানে তৈল ঢালিলে।
৩৬। কোন মহিলা যদি তাহার যোনি পথে কোন তরল পদার্থ ফোটা ফোটা করিয়া প্রবেশ করায় তবে তাহার রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৭। যদি কাহারো পেটে তীর বা বর্শা ইত্যাদি বিদ্ধ হইয়া পেটের ভিতরে থাকিয়া যায় তাহা হইলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৮। সুতা দিয়ে বাঁধা গোশতের টুক্রা গিলিয়া তৎক্ষণাৎ বের না করিয়া রাখিয়া দিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৩৯। পানি বা তৈল দ্বারা ভিজানো আঙ্গুল মলদ্বারে অথবা মহিলার যোনিদ্বারে রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় ঢুকানো হইলে, পানি বা তেল ভিতরে প্রবেশ করার কারণে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৪০। মলত্যাগের সময় রোজাদার ব্যক্তির বসা অবস্থায় মলদ্বার বের হইয়া আসিলে পানি ব্যবহারের পর ঐ পানি না মুছিয়া দাঁড়াইলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে। কারণ তাহাতে গুহ্যদ্বার দিয়ে পেটের ভিতর পানি প্রবেশের আশংকা থাকে।
৪১। সাহরী খাইবার পর পান মুখে ঘুমাইয়া পড়িলে এবং সুবহে সাদিকের পর জাগ্রত হইলে এ রোজা সহীহ্ হইবেনা। কাজা ওয়াজিব হইবে। কিন্তু কাফ্ফারা ওয়াজিব হইবে না।
৪২। ঘুমন্ত মহিলার সাথে সহবাস করিলে মহিলার রোজা ফাসিদ হইয়া যাইবে। তাহার উপর কাজা ওয়াজিব হইবে।
৪৩। বমি হওয়ার পর রোজা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে মনে করিয়া পানাহার করিলে রোজা অবশ্যই ভঙ্গ হইয়া যাইবে। তাহাতে কাজা ওয়াজিব হইবে।
৪৪। স্বপড়বদোষ হইবার পর রোজা ভঙ্গ হইয়া গেছে মনে করিয়া পানাহার করিলে কাজা ওয়াজিব হইবে।
৪৫। দুইজন স্ত্রী লোক পরস্পরের মিলনের কারণে যদি উভয়ের রেত পাত হয় তাহা হইলে উভয়ের রোজা নষ্ট হইবে।
৪৬। লোবান বা আগরবাতি জ্বালাইয়া তাহার ধোয়া গ্রহণ করিলে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে।
৪৭। রোজাদারের ইচ্ছায় মশামাছি, ধুলাবালি অথবা, ধুয়া গলার ভিতর চলিয়া গেলে রোজা নষ্ট হইবে। প্রকাশ থাকে যে, এমন কোন জিনিস গিলিয়া ফেলিলে যাহা লোকে সাধারণত খাদ্যরূপে খায় না বা ঔষধ রূপে সেবন
করেনা। তবে তাহাতে রোজা ভঙ্গ হইয়া যাইবে বটে কিন্তু কাফ্ফারা দিতে হইবে না। কাজা করিতে হইবে।
৪৮। কোনো জন্তুর সাথে সঙ্গম করে তবে তাহার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হইবে না। তাহার বীর্যপাত ঘটুক বা না ঘটুক। হ্যাঁ যদি বীর্যপাত হইয়া যায়তবে তাহার উপর কাজা ওয়াজিব হইবে। আর বীর্যপাত না হইলে কাজাও
ওয়াজিব হইবে না।
৪৯। যদি কোনো স্ত্রীলোকের সাথে জবরদস্তি করিয়া সঙ্গম করা হয় তবে স্ত্রীলোকের উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হইবে না। এমনিভাবে স্ত্রী লোকটির সাথে শুরুতে যদি জবরদস্তি করা হয়, মাঝপথে আনন্দ ভোগ করার পর সেও রাজি হইয়া যায় এই সুরাতেও তাহার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হইবে না। আরো প্রকাশ থাকে যে, বিনা ওজরে অসাবধানতাবশতঃ যাহার রোজা ভঙ্গ হইয়াছে, সেই ব্যক্তির দিনের বাকী অংশটুকু পানাহার প্রভৃতি কার্য হইতে বিরত থাকিতে হইবে। অর্থাৎ রোজাদারের মত থাকিতে হইবে। কিন্তু ঋতুমতী স্ত্রীলোক দিবাভাগে পবিত্র হইলে, মুসাফির দিবা ভাগে আপন গৃহে ফিরিয়া আসিলে এবং পীড়িত ব্যক্তি দিবাভাগে সুস্থতা প্রাপ্ত হইলে তাহাদের পানাহার ইত্যাদি হইতে বিরত থাকিতে হইবে না।