ইন্টার ফেইথ ষড়যন্ত্র (কাফিরদের পরিচালিত ঈমান ধ্বংসকারি মতবাদ)

0
209

বর্তমান সময়ে ইয়াহুদি-খ্রিষ্টান জোটের ইমান ধ্বংসকারি অন্যতম মারনাস্ত্র হলো ইন্টার ফেইথ। যা একটি কুফুরি মতবাদ ভিত্তিক কর্মসূচি। এ নামটি প্রথম শুনছেন? আপনার কাছে নামটি নূতনমনেহলেও গত এক দশক ধরে ইন্টারফেইথ ষড়যন্ত্র মুসলিমদের মঝে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো। আত্মপ্রবঞ্চিত র‍্যান্ড শায়েখদের দাওয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে ইমানহারা হয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মুসলিম। مَعَاذَ اللهِ مِنْ ذَالِكْ  .। ইমান রক্ষা করতে হলে ইন্টারফেইথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেই হবে।

ইন্টারফেইথ কি?

ইন্টারফেইথ হলো আন্তঃধর্ম যাকে আরবিতে বলাহয়

الْأَدْيَان  وَحْدَةُ   

এই মতবাদে বিশ্বাসী মানুষ

মনেকরে মুসলিম,ইয়াহুদি, হিন্দু,জৈন,বৈদ্য, খ্রিষ্টান সবার ধর্মই সঠিক। কোনো ধর্মই অপর ধর্ম থেকে শ্রেষ্ঠনয়। সকল ধর্মই ভালো কথা বলে – সকল ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলে । আর শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো ধর্মের মূল কথা। সঠিক ধর্ম ও ভূলধর্ম বলতে কিছু নেই। সব ধর্ম সঠিক তাই হিন্দু,বৈদ্ধ,খ্রিষ্টান   কারোই আপন ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে যাওয়ার দরকার নাই। যে যার ধর্মে থাকবে ধর্মের বৈচিত্র প্রকৃতির বৈচিত্রের ন্যায় স্বাভাবিক ।

ইন্টারফেইথ মূলত আমেরিকার র‍্যান্ড কর্পোরেশন পরিচালিত মডারেট ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মডারেট ইসলামে বিশ্বাসিদের ইন্টারফেইথের প্রতি ইমান আনতেহয়। (মডারেট ইসলাম নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমার লেখা কলামঃ “মডারেট ইসলাম-একটি কুফুরি মতবাদ।)

ইন্টারফেইথ-কে কেন্দ্রকরে কাফিরদের তৈরি মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্ক  বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে । ফেইসবুক,ইউটিউব সহ বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ার পাশাপাশি টেলিভিশনে প্রচারকরছে ইন্টারফেইথ ডায়ালোগ। আয়োজন করছে ইন্টারফেইথ সম্মেলন। বিভিন্ন ফোরামে চলছে নানান কর্মসূচি।

এই মডারেট নেটওয়ার্কের জোর প্রচেষ্টায় INTER-RELIGIOUS DIALOGUE বা আন্তঃধর্মীয় সংলাপ। INTERFAITH HARMONY বা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি । INTERFAITH ALLIANCE বা আন্তঃধর্মীয় মৈত্রী। ইত্যাদি পরিভাষা মুসলিম বিশ্বে এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । এমনকি আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনাও দেখাযাচ্ছে কোথাও কোথাও। একই ছাদের নিচে মাসজীদ,মন্দির ও গীর্জা স্থাপন এবং একই মলাটে কুরআন, বাইবেল,তাওরাত ও গীতা ছাপানোর কথা জোরগলায় বলাহচ্ছে। مَعَاذَ اللهِ مِنْ ذَالِكْ 

ইন্টারফেইথ প্রচারে কাফিররা মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশদের বসানো তাগুত রাজাদের সবথেকে বেশী কাজে লাগাচ্ছে। ২০১০ সালে জর্দানের বাদশা আব্দুল্লাহ দ্বিতীয় এবং প্রিন্স গাজি বিন মুহাম্মাদের প্রস্তাবে জাতিসংঘ প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসের  প্রথম সপ্তাহকে WORLD INTERFAITH HARMONY WEEK বা বিশ্ব  আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সপ্তাহ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইন্টারফেইথ-কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর সৌদি আরব, অষ্ট্রিয়া ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে ভিয়েনায় প্রতিষ্ঠিতহয় king Abdullah bin abdul aziz international centre for INTER-RELIGIOUS and inter cultural DIALOGUE নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

ইন্টারফেইথ মূলত সেকুলারিজম বা ধর্ম নিরপেক্ষতার একটি আধুনিক পরিমার্জিত সংস্করণ মাত্র। পার্থক্য শুধু এখানে সেকুলারিজমে কাফিররা ব্যবহার করে কেবল কোট,প্যান্ট-টাই পরিহিত কথিত সুশিল সমাজকে। যাদের আসল চরিত্র সম্পর্কে আমজনতা অনেকটা জ্ঞাত এবং এদের ইসলাম বিরোধি অবস্থানের কারণে এদের থেকে সাধারণ মুসলিমরা সাবধানে থাকে। পক্ষান্তরে ইন্টারফেইথ প্রসারে কাফিররা  ব্যবহারকরে জুব্বা পড়া , রুমালে ঘোমটা দেয়া কথিত সহীহ-আক্বিদার শায়খ, মাসজীদের ইমাম , শাইখুল হাদীস ও জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলারদের । ফলে সাধারণ মুসলমানরা সহজেই প্রতারিত হয়। নিজেদের অজান্তেই হারিয়েফেলে ইমান। এই দিকটি বিবেচনায় ধর্মনিরপেক্ষতার চেয়ে ইন্টারফেইথ অধিকতর ভয়ঙ্কর,সুক্ষ ও ইমান বিধ্বংসি।

ইন্টারফেইথ কেন প্রচারকরা হচ্ছে?

এখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতেপারে কাফিররা এভাবে মরিয়াহয়ে ইন্টারফেইথ প্রচারের কারণ কি?

মূলত ইন্টারফেইথ আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রূসেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। পুরো পৃথিবীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির মুশরিকরা যে সামরিক ক্রূসেড চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিন-আফগান,ইরাক-সিরিয়া ,ইয়েমেন, মালি কিংবা আরাকান-কাশ্মীরে মুসলিমদের উপর যে ধ্বংসযোগ্য চালাচ্ছে এর বিরুদ্ধে যেন মুসলমান এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ্যহতে নাপারে। সমস্ত পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলিম নিধনে কাফিররা যে এক প্লাটফর্মে এসেছে তা যেন মুসলিমরা বুঝতে নাপারে। তারা যেন নিজেদের শেকরের সাথে মিলতে নাপারে। তাদের হৃদয় থেকে যেন ইসলামের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ও আমল মুছেযায় । ইসলামই একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত সত্য দ্বীন। এটা যেন তাদের হৃদয় থেকে মুছেগিয়ে কাফিরদের জাহান্নামি দলে শামিল হয়েযায়। এই লক্ষ্যগুলোকে সামনে রেখেই কাফিররা বিশ্বব্যাপি ইন্টারফেইথকে ছড়িয়ে দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

রব্বে-কারীম এ ব্যপারে কঠোর সতর্ক করে বলেন

    وَدُّواْ لَوۡ تَكۡفُرُونَ كَمَا كَفَرُواْ فَتَكُونُونَ سَوَآءٗۖ অর্থাৎ তারা এটাই কামনা করে যে, তারা যেরূপ কুফরী করেছে তোমরাও সেরূপ কুফরী কর, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। (সূরা নিসা-আয়াতঃ ৮৯)

ওরা সিংহের জাতি মুসলিম সিংহ শাবক গুলোকে ভেরার পালের সাথে মিশিয়ে দিতে চায়।

ওরা সিংহের জাতি মুসলিমদের সন্তানগুলোকে পদানত রাখতে চায় যাতে মুসলিম জাতি কখনো নিজের অধিকার বুঝেনিতে নাপারে। যুগে যুগে কাফিররা কিছু দুনিয়ালোভী গাদ্দার মুসলিমকে কাজে লাগিয়ে মুসলমানদের আক্বিদা বিশ্বাস ধ্বংসকরার চেষ্টাকরেছে।

ইন্টারফেইথ সম্পর্কে ইসলামি শরীয়াহ‘র দৃষ্টিভঙ্গি কি ?

ইসলামি শরীয়াতের দৃষ্টিতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, আন্তঃধর্মীয় সভা-সেমিনার, আন্তঃধর্মীয় ধর্মীয় প্রার্থনা, আন্তঃধর্মীয় যে কোন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া জঘন্য হারাম এবং সুস্পষ্ট গোমরাহি।

ইরশাদ হচ্ছে-إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। (সূরা আল-ইমরান-আয়াতঃ ১৯)। কুরআন-সুন্নাহের দলীল দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে ইসলাম ব্যতীত কোনো হক্ব বা সত্য ধর্ম নেই। যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্যকোনো ধর্মকে সত্য ধর্ম মনেকরে বা করবে সে সুস্পষ্ট কাফির এবং আখেরাতে জাহান্নামিদের দলভূক্ত।

আল্লাহর ঘোষণা-وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ অর্থাৎ আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার(আল্লাহর) পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ জাহান্নামি)। (সূরা আল-ইমরান-আয়াতঃ ৮৫)।

ইসলামে যে কয়টি মৌলিক বিষয়ের উপরে একজন মুসলিমের বিশ্বাস করা ফরয-তার অন্যতম একটি বিশ্বাস হলো হযরত মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم   শেষ নবী। তিনি আগমনের পরে সকল ধর্ম রহীত হয়েগিয়েছে এবং  ইসলাম ধর্মে দাখিল নাহয়ে যত ভালো কাজকরুক আল্লাহর কাছে তার ফলাফল শূন্য।

ইরশাদ হচ্ছে أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ

অর্থাৎ এসব লোক, এদের (কাফিরদের) কার্যাবলী দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল হয়েছে এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা আল-ইমরান-আয়াতঃ ২১)

ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো-ইসলামই একমাত্র আল্লাহকর্তৃক মনোনীত ধর্ম যারমাধ্যমে নাজাত বা আখেরাতে মুক্তি লাভকরা যাবে। বাকি সকল ধর্মই বাতিল তার অনুসারিরা কাফির এবং অবশ্যই জাহান্নামি । তাদের সাথে কোনো মূমীনের হৃদয়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারেনা। আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেনঃ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ  خَٰلِدِينَ فِيهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ شَرُّ ٱلۡبَرِيَّةِ  অর্থাৎঃ

নিশ্চয় কিতাবীদের (ইয়াহুদি,খৃষ্টানদের) মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই নিকৃষ্ট সৃষ্টি।

(সূরা বাইয়্যিনাহ-আয়াতঃ ৬)।

যে ইয়াহুদি খ্রিষ্টানদের চিরস্থায়ী জাহান্নামি মনে করবেনা সে কাফির। নবী কারীম সঃ ইরশাদ করেন-وَالَّذِيْ نَفْسُ مُحَمَّدٍ بيَدِهِ، لَا يَسْمَعُ بِيْ أحَدٌ مِنْ هذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِيٌّ، وَلَا نَصْرَانِيٌّ، ثُمَّ يَمُوتُ ولَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِه، إلَّا كَانَ مِن أصْحَابِ النَّارِ

অর্থাৎ সে মহান সত্তার কসম ! যারহাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এই উম্মতের যে আমার কথা শুনেছে । চাই সে ইয়াহুদি হোক বা খ্রিষ্টান হোক,সে যদি আমার আনিত দ্বীন ইসলামের প্রতি ইমান এনে মারা না যায় তাহলে সে নিঃসন্দেহে জাহান্নামী। (বর্ণনাকারীঃ আবু হুরায়রা (রাঃ),

সহীহ মুসলিম  হাদীস নং – ১৫৩)।

 

উপরোক্ত দালিলিক আলোচনা ও মৌলিক মূলনীতির আলোকে একথা স্পষ্ট ইন্টারফেইথ বা আন্তঃধর্মীয় দাওয়াত একটি ধোকা ও প্রতারণা। এর উদ্দেশ্য হলো ঈমান ও শিরকের বিভেদ প্রাচির মুছেফেলা এবং তাওহীদ ও কুফরকে একত্র করে ফেলা-মুসলিমদের বেইমান বানানো।

 

এদেশে প্রচলিত ইন্টার ফেইথ কেন্দ্রীক কিছু চটকদারকথাঃ

* ধর্ম যার যার উৎব সবার ।

* সকল ধর্মই শান্তির কথা বলে।

* অনেক সময় ইবাদতের সাথে পূজার তুলনা করে।

* একই অনুষ্ঠানে কুরআনের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা। 

* মানবতাই আসল ধর্ম (মানবতা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ যার সমন্বিত রূপকে মোয়ামালাত বলে কিন্তু মানবতা কোনো আলাদা বিচ্ছিন্ন ধর্ম হতে পারেনা । বরং ইসলামকে মানলেই তার আমলে প্রকৃত মানবতা ফুটে উঠবে। মানবতা মানে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানবিক হওয়া। কিন্তু কোনোভাবেই মানবতার নামে অন্যধর্মের আচার পালন করা মানবতা নয় এটি ধর্মথেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নামান্তর)।

বাংলাদেশে ইন্টার ফেইথের কার্যক্রমঃ  বাংলাদেশে ফরিদ উদ্দীন মাসূদের পাশাপাশি ইসরাইলের মিত্র আরবের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী কথিত শায়েখরাই মূলত এদেশে ইন্টার ফেইথের সরাসরি প্রচারক। এবং সকলকেই বেতনভুগী বলা সম্ভবনয় তবে, অনেকে ইন্টার ফেইথ সম্পর্কে না জেনে চটকদার কথা গুলোতে আকৃষ্ট হয়ে ইন্টার ফেইথের বিভিন্ন মতবাদ ফেরিকরে বেড়াচ্ছেন।

উদাহরণ স্বরূপ একটি টকশো নিয়ে কথা বলা যেতেপারে-যেমনঃ ২০২০ সালের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল “ ডিবিসি”তে শাহনাজ রুমার উপস্থাপনায় “উগ্রবাদঃ ধর্ম যখন হাতিয়ার” শীর্ষক শিরোনামে একটি টকশোতে আনঃধর্মীয় সম্প্রীতির ব্যাপারে আলোচনা হয়। যাতে অতিথি হিসেবে ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে ডাকাহয় আহলে হাদীস গুরু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর মনজুরে ইলাহি। হিন্দুদের পক্ষথেকে- হিন্দু-বৈদ্ধ্য-খ্রীষ্টান ঐক্যপরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য,কাজল দেবনাথ এবং  খ্রিষ্টানদের পক্ষথেকে বাংলাদেশের চার্চ লিডার-রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী।

Ø টকশোর একপর্যায়ে ইন্টার ফেইথ তুলে ধরতে গিয়ে কাজল দেবনাথ বলেন-[কোডঃلَكُمۡ دِینُكُمۡ وَلِیَ دِین  মানে তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার। তাহলে কি দাড়ালো,সুতরাং লাকুম দ্বী……… অর্থাৎ তোমার ধর্মটা তোমার আমার ধর্মটা আমার। এই যে তোমার ধর্ম তোমার, আর আমার ধর্ম আমার।’ এইযে, একোমোডেট এর যায়গাটা………… আমি যদি বিদায় হজ্জে আসি সেখানে বলাহয়েছে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করোনা।] যদিও সঠিক অনুবাদ হবে তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার।(সূরা-কাফিরুন ,আয়াতঃ৬)।

একজন শায়েখের উপস্থিতিতে একজন হিন্দু কিভাবে ইন্টার ফেইথকে তুলে ধরলো ! তিনি বসে বসে মাথা নাড়ছেন। পুরো আলোচনা জুড়ে সূরা কাফিরুনের অপব্যাখ্যা করা হলো। মাঞ্জুরে এলাহি তার প্রতিবাদ তো করেন-ই-নি বরং কোথাও চুপথেকে মৌন সমর্থন দিয়েছেন কোথাও সূর মিলিয়েছন কোথাও আগবাড়িয়েছেন। অথচ সূরা কাফিরুন নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপটই হলো- অনেকটা ইন্টার ফেইথের আদলে মক্কার মুশরিকরা মহানবী (সঃ) কে প্রস্তাব দেয় “আসুন বিভেদভুলে কিছু দিন আমরা আপনার উপাস্যের উপাসনা করি এবং আপনি কিছুদিন আমাদের উপাস্যের উপাসনা করুন। এরই প্রেক্ষিতে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সূরা কাফিরুন নাযিল হয়। তাফসীরে এভাবে উল্লেখ করাহয়েছে –

هَذِهِ السُّورَةُ سُورَةُ الْبَرَاءَةِ مِنَ الْعَمَلِ الَّذِي يَعْمَلُهُ الْمُشْرِكُونَ، وَهِيَ آمِرَةٌ بِالْإِخْلَاصِ فِيهِ، فَقَوْلُهُ﴿قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ﴾ شَمِلَ كُلَّ كَافِرٍ

 عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، وَلَكِنَّ الْمُوَاجَهِينَ  بِهَذَا الْخِطَابِ هُمْ كفارُ قُرَيْشٍ.

এই সূরায় মুশরিকদের আমল ও কর্মকান্ড হইতে ইমানদারদের সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়াহয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদাত করিবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এইখানে হে কাফিরগণ! বলিয়া কুরায়শ কাফিরদের লক্ষ্য করিয়া বলা হইলেও ভূ-পৃষ্ঠের প্রত্যকে কাফিরই এই সম্বোধনের অন্তর্ভূক্ত। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

এখানে কাজল দেবনাথ অত্র সূরার ৬ নং আয়াতের উদৃতি দিয়ে যা বুঝাতে চেয়েছেন তা এক কথায় অজ্ঞতা ও প্রতারণা। ইমাম বুখারি রহঃ لَكُمۡ دِینُكُمۡ وَلِیَ دِین এর ব্যাখ্যায় বলেন।

﴿لَكُمْ دِينَكُمْ﴾ এর দ্বীন অর্থ কুফর এবং   ﴿وَلِيَ دِينِ﴾এর অর্থ ইসলাম। এ আয়াতের মর্ম কথা হলো যে সমস্ত কাফিরদের ইসলাম গ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নাই তাদেরকে ঘোষণা দেয়া যে, তোমাদেরকে একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামে দাওয়াত দেয়ার পরেও যেহেতু ইসলাম গ্রহণ করবেনা কাজেই তুমি তোমার কুফুরি নিয়ে থাক । আমি আমার ইসলামের উপরে অটল ছিলাম, আছি এবং থাকবো। ধর্ম নিয়ে কোনো আপস বা সংমিশ্রণ হবেনা।

Øটকশোর পরবর্তী অংশে একপর্যায়ে কাজল দেবনাথ -বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তঃধর্মীয় শিক্ষা চালু করার পদক্ষেপ নিতে আহবান জানালেন। প্রস্তাব দিলেন শিশুদেরকে যেন সব ধর্ম পড়ানোহয়। সব ধর্মের মূলকথা যেন শিশুর অন্তরে গেথে দেয়াহয় তিনি বলেন [কোডঃ একটি শিশুর ধর্ম শিক্ষা হবে তাতে সব ধর্মের শিক্ষা হবে। প্রত্যেকটি ধর্ম সম্বন্ধে যে মূলকথাগুলো আছে সেগুলো বলাহবে প্রত্যেকটি ধর্ম সম্বন্ধে যে মূল স্পিরিটটা আছে সেটাই বলা হবে।তাহলে শিশুমনে আমি প্রথম অঙ্কুরোদমটা করবো তুমি ইনক্লুসিভ হও। সে যখন বড় হবে তখন সে ইচ্ছেমতো যে কোনো ধর্ম বেছে নিবে। যেমন ফিজিক্স,ক্যামেষ্ট্রি সহ অন্যান্য সাবকেক্ট বেছে নেয়।] তিনি আরো প্রস্তাব রাখলেন মাসজীদের খুৎবা ও মাহফিলগুলোতে যেন সর্বধর্ম কথাটি বা ইন্টার ফেইথকে হাইলাইট করাহয়।

উপস্থাপিকা মাঞ্জুরে ইলাহিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন-[কোডঃ শুক্রবারের জুম্মায় ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও জানানো! সেই যায়গাটা একটু জানতে চাই।] এব্যাপারে আপনার মতামত কি? মাঞ্জুরে এলাহি উত্তর দিলেন-[কোডঃ হতেপারে! শুধু জুম্মার খুৎবা বলছি কেন ধর্মীয় যেকোনো মাহফিল, যেকোনো আলোচনায় সেটা আসতে পারে] তিনি আরো এক ধাপ এগিয়ে শিক্ষা কারিকুলামেও এগুলো ঢুকাতে প্রস্তাব দিলনে।  مَعَاذَ اللهِ مِنْ ذَالِكْ

তার এ কথার মানে কি? মাসজীদ-মাদ্রাসায় ইসলামের পাশাপাশি খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদি ধর্ম ধর্ম শেখানো হবে? ঈমানও তাওহীদের পাশাপাশি শিরক ও কুফর শেখানো উচিৎ? শিশুদেরকে ইসলামের পাশাপাশি খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদি, শিরক-কুফর মিশ্রিত শিক্ষা দেয়া উচিৎ?

আসুন এব্যাপারে আমরা কুরআনের নির্দেশনা দেখি। কুরআন বলছে-

 

وَٱتَّخَذُواْ مِن

 دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا

আর তারা(কাফির ও মুশরিকরা) তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। আর মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের উপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।(সূরা আল-ফুরকান,আয়াতঃ০৩)।

অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের মূলবাণী হলো তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস। অন্যধর্মের মৌলিক বিশ্বাস হলো একাধিক দেবতায় বিশ্বাস। কাজেই ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পাশাপাশি শিরক-কুফরের বা মর্ম কথা প্রচার বা ধারণ করার বিন্দুমাত্র অবকাশ নাই। এটা করার চেষ্টা সর্বসম্মতভাবে কুফুরি। ইসলামের পাশাপাশি অন্যধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়া, অন্যধর্মের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অতি সহনশীল হয়ে তাদের আচারে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেড়হাজার বছর আগে আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে বিশ্ব নবী সাঃ প্রত্যখ্যান করেছেন।

Øটকশোটির একটি পর্যায়ে একজন দর্শক ফোন করে প্রশ্ন করলেন এতগুলো ধর্ম কেন? সত্যতো একটি। তাহলে এতগুলো ধর্ম কেন ? হয় একটি ধর্ম সঠিক অথবা সব মিথ্যা। মাঞ্জুরে ইলাহি সাহস করে কুরআনের সেই আয়াতটি তিলাওয়াত করে শুনাতে পারলেননা – যে আল্লাহ বলেছেন –وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার(আল্লাহর) পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ জাহান্নামি)। (সূরা আল-ইমরান-আয়াতঃ ৮৫)।

বলতে পারলেন না ভাই, একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম।

তিনি বললেন [কোডঃ ব্যাপারটাকে ঐভাবে ব্যাখ্যা না করে আমরা বলবো বিভিন্ন মত থাকবে এটাকে একমতে আনা যাবেনা। ভিন্ন মতটাকে বিরুদ্ধে রুপান্তরিত করা যাবেনা। যেটা বিভক্তি; আমাদেরমাঝে সহিংসতায় ডেকে নিয়ে যায়। ভিন্ন মতটাকে শ্রদ্ধাকরা বিরোধীতাকে না বলে দেয়া।] এখানে ভিন্ন মত বলতে কি বুঝাতে চাইলেন ?

তার মানে কি শিরক ও কুফুরের বিরোধীতা করা যাবেনা ?

যদি এটাই করতে হয় তাহলে কুরআন ও হাদীসকে পরিবর্তন করতে হবে। مَعَاذَ اللهِ

কারণ কুরআনের বড় অংশ মানব রচিত ধর্ম কিংবা মানুষের ইচ্ছামত কাট-ছাটকরা ধর্মের অসারতার কথা স্পষ্ট ভাবে তুলেধরা হয়েছে। ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করতে নির্দেশ দেয়াহয়েছে। যেমন-ইরশাদ হচ্ছেঃ

﴿إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الأنْفُسُ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنْ رَبِّهِمُ   الْهُدَى﴾ অর্থাৎ তাহারা (কাফির-মুশরিকরা) কেবল ধারণা আর মনের চাহিদার অনুসরণ করে । অথচ তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহাদের নিকট হিদায়াত (ইসলাম) আসিয়া গিয়াছে।(সূরা নাজম,আয়াতঃ২৩)। সুতরাং হে মুহাম্মাদ তুমি প্রতিটি কাজে তাদের উপেক্ষা করিয়া চল। (তাফসীরে ইবনে কাসীর) অন্যত্র ইওরশাদ করা হয়েছে- فَأَعۡرِضۡ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكۡرِنَا وَلَمۡ يُرِدۡ إِلَّا ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا অর্থাৎ অতএব, যে আমকে স্মরণ থেকে বিমুখ হয় (আমার দেয়া দ্বীনের অনুসরণ না করে) আপনি তাকে উপেক্ষা করে চলুন  এবং (কাফিররা) কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।

(সূরা নাজম,আয়াতঃ৩২)।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং

সাহাবাগণ (রাঃ) নির্যাতনের শিকার হয়েছেন একমাত্র মক্কার মুশরিকদের মূর্তি পূজার বিরোধিতা করার জন্য। মাদীনায় ইয়াহুদিদের কিংবা নাজরানের খ্রিষ্টানদের বাধার সম্মুখিন হয়েছেন একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত ধর্ম ইসলামের ঘোষণা দেয়ার কারণে। ইসলামের সকল যুদ্ধই সংগঠিত হয়েছে মানবরচিত ধর্মের অসারতার বিরোধিতা ও আল্লাহর মনোনিত ধর্ম ইসলামের প্রতি বিশ্ব মনবতাকে আহবানকে কেন্দ্র করেই। অথচ আফসোস! এই কথিত এই শায়খরা কোরআনের নির্দেশনার বিপরীত মেরুতে গিয়ে কুফর ও শিরকের বিরোধীতা করতে নিষেধ করছেন।

 অন্য ধর্মের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কি?  অন্য সকল ধর্মের প্রতি ইসলামের দৃষ্টি ভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদেরকে বিভিন্ন দলীল ,গবেষণাধর্মী বিতর্ক, সকল ধরণের উত্তমপন্থা অবলম্বন করে একমাত্র মুক্তির পথ ইসলামের প্রতি আহবান করা হবে। তারা আহবানে সাড়া দিলে একজন সাধারণ মুসলিমের ন্যায় সমান অধিকার ভোগকরবে। আর ডাকে সাড়া না দিলে তাকে তার ধর্ম পালনে কোনো বাধা দেয়া হবেনা।

তবে তার ধর্মীয় কাজে কোনো মুসলিম আর্থিক,শারিরিক বা মানুষিক কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করবেনা।

কিন্তু তারা শারিরিক,আর্থি বা সামাজিক সমস্যয় পরলে তাদেরকে  সাধ্যানুযায়ী সহযোগীতা দিবে।

অন্য ধর্মকে কিংবা তাদের পূজনীয়দের গালি দিবেনা। কারণ এতে সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তারা না বুঝে আল্লাহকে গালি দেয়ার মত ক্ষমার অযোগ্য অপরাধে জড়িয়ে পরতে পারে। সূরা আল-আনআমের ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন: (وَلَا تَسُبُّوا۟ ٱلَّذِینَ یَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَیَسُبُّوا۟ ٱللَّهَ عَدۡوَۢا بِغَیۡرِ عِلۡمࣲۗ كَذَ ٰ⁠لِكَ زَیَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمۡ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِم مَّرۡجِعُهُمۡ فَیُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا۟ یَعۡمَلُونَ) ‘আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের পূজা করে তোমরা তাদের গালি দিও না, কেননা তাহলে তারা সীমালঙ্ঘন করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে। এ রূপেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের কাজকর্ম সুশোভিত করে রেখেছি। অবশেষে তাদের রবের কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তারা করতো (অর্থাৎ তাদের ভ্রষ্টতার কারণেতাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করা হবে)

কাফিরদের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে?

সামাজিক জীব হিসেবে দুনিয়াতে থাকতে হলে মানুষের সঙ্গে বসবাস করতে হবে। তাই কারো সাথে সামাজিক কারো সাথে মানবিক কিংবা কারো সাথে আত্মিক বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপিত হবে। কিংবা আত্মরক্ষার্থে কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয় সাবধানতার। তাই সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ইসলাম মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যাকে হাদীসের পরিভাষায় বলে হুব্বে-ফিল্লাহ্ এবং বুগজে-ফিল্লাহ (উহার) অর্থ এই যে, এক ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়াতের মোয়াফেক থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাহার সাথে দুস্তি-মুহাব্বাত কায়েম রাখা, আর যখন শরীয়াত বিরোধী কাজে লিপ্ত হয় তখন তাহার সাথে দুস্তি তরক করা।)। শুধু মাত্র কাফির কেন যে কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপনে এই মূলনীতি মানতে বাধ্য।

কাফিরদের সাথে সম্পর্ক হতে  হবে দু’ধরণের

? সাবধানতারঃ

সাধারণ কাফিরদের সাথে

দুনিয়ার প্রয়োজনে লেন-দেনেরসম্পর্ক থাকতে পারে তবে, সাবধান থাকতে হবে যাতে কোনোভাবেই তার ধর্মীয় আচার কিংবা বিশ্বাস যেন মুসলিমের আক্বিদা ও কাজের সাথে মিশ্রিত না হয়।

? আত্মরক্ষারঃ যদি কোনো কাফির রাষ্ট্র বা ব্যক্তি থেকে জান-মালের ক্ষতির আশংকা থাকে। তাহলে আত্মরক্ষার্থে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালি করে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা।

মোট কথা কোনো কাফিরের সাথে  আন্তরিক বন্ধুত্ব বা বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগনেই। কারণ যার অন্তরে খওফে ইলাহি বা  আল্লাহর ভয় নেই তার কাছে কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। আল্লাহ কঠোরভাষায় নিষেধ করেছেন যদি,  কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।

لَّا يَتَّخِذِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَلَيۡسَ مِنَ ٱللَّهِ فِي شَيۡءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُواْ مِنۡهُمۡ تُقَىٰةٗۗ وَيُحَذِّرُكُمُ ٱللَّهُ نَفۡسَهُۥۗ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلۡمَصِيرُ

অর্থাৎ মুমিনগণ যেন মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরুপে গ্রহণ না করে। আর যে কেউ এরূপ করবে তার সাথে আল্লাহ্‌র কোনো সম্পর্ক থাকবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাদের নিকট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর আল্লাহ্‌ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করেছেন এবং আল্লাহ্‌র দিকেই প্রত্যাবর্তন।

(সূর আল-ইমরান,আয়াতঃ ২৮)।

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে- يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُوٓاْ ءَابَآءَكُمۡ وَإِخۡوَٰنَكُمۡ أَوۡلِيَآءَ إِنِ ٱسۡتَحَبُّواْ ٱلۡكُفۡرَ عَلَى ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ  অর্থাৎ

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পিতৃবর্গ ও ভ্রাতৃবৃন্দ যদি ঈমানের মুকাবিলায় কুফরীকে পছন্দ করে, তবে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করো না । তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করে তারাই যালিম। (সূরা তাওবা-আয়াতঃ ২৩)  

আল্লাহ তায়ালার এই নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিক কারণ অন্যত্র বর্ণনা করেছেন। কোনো মুসলিম  কাফিরদের সাথে যতই বন্ধুত্ব রেখে দু’কুল রক্ষা করার চেষ্টা করুকনা কেন পুরোপুরি বেইমান না হওয়া পর্যন্ত কাফিররা কখনো তার উপর সন্তুষ্ট হবেনা

وَلَن تَرۡضَىٰ عَنكَ ٱلۡيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمۡۗ

অর্থাৎ আর ইয়াহুদী ও নাসারারা আপনার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন।

(সূরা বাকারা-আয়াতঃ ১২০)

আপনি তাদেরকে যতই সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুননা কেন,তারা মুসলিমদের অস্তিত্ব বিলীন করার আগ-পর্যন্ত মুসলিমদের বিরুদ্ধে ওদের যুদ্ধ চালিয়েই যাবে ইরশাদ হচ্ছেঃ

وَلَا يَزَالُونَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمۡ عَن دِينِكُمۡ إِنِ ٱسۡتَطَٰعُواْ

আর তারা সবসময় তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে, যে পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে না দেয় (সূরা বাকারা-আয়াতঃ ২১৭)। সারা বিশ্বের মুসলিম শাসকরা কাফির-মুশরিকদের গোলামী করার পরেও কি তারা যুদ্ধের নামে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করেছে? তাকিয়ে দেখুন- আফগান-ইরাক, ফিলিস্তিন-সিরিয়া,ইয়ামান,সোমালিয়া,

কাশ্মীর-আরকানে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েই যাচ্ছে। ইস্যু তৈরি করার জন্য অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়ে আইএস, জেএমবির মত বহু উগ্রবাদি সংগঠন ছড়িয়ে দিচ্ছে । যাতেকরে ইসলামকে চরমপন্থি ধর্ম হিসেবে তুলে ধরাযায় এবং উগ্রতা দমনের নামে বিভিন্ন কর্মসূচির আড়ালে ইন্টার ফেইথকে ছড়িয়ে দিয়ে মুসলিম জাতিকে বেঈমান বানানো যায়।

কাফিরদের প্রতি মু’মীনদের করণীয়ঃ  আমাদের প্রথম করণীয় হলো তাদেরকে জাহান্নামের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। দরদমাখা দিল নিয়ে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতেহবে। মোটকথা তাদের সাথে সম্পর্কহবে দাওয়াতের কেন্দ্রীক।

ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ

আপনি মানুষকে দা’ওয়াত দিন আপনার রবের পথে হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে তর্ক করবেন উত্তম পন্থায়।-(সূরা নাহল,আয়াতঃ ১২৫)।

সোসাল মিডিয়া সহ যুগের আধুনিক মাধ্যমগুলোকে দাওয়াতের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের এইমাধ্যমগুলোতেই দালিলিক জবাব দেয়া। তাই অবশ্যই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা। আচরণ ও লেন-দেনের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে তুলে ধরা। মনেরাখতে হবে ধর্মের কোনো রঙ গন্ধ নাই – আপনার কর্মের মাঝেই ইসলাম ফুটে উঠবে । তাই আমল (কর্ম) গুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেয়া যাতে এর মাঝেই ইসলামের সুগন্ধ অন্যরা অনুভব করতে পারে; যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তিগণ করে গিয়েছেন।

যেসমস্ত মাজলীশে কুরআনের পাশাপাশি অন্যধর্মের গ্রন্থ পাঠকরা হয় সেখানে করণীয় কি? প্রথমত মনে রাখতেহবে একই মাজলীশে কুর আনের পাশাপাশি অন্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করার অর্থ হলো আপনি তাকে ইসলামের সমমর্যাদা দান করছেন অথচ এই অধিকার আপনাকে আল্লাহ দেননি। আপনি কাফিরদের বানানো ইন্টারফেইথ বা অন্তধর্মীয় বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন এই অধিকার আপনাকে কে দিল? এটা সুস্পষ্ট কুফুরি। সূরা কাফিরুন নাযিলকরে আল্লাহ এটাকে হারাম করেছে । তাই এজাতীয় মাজলিশ কায়েম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি তা আপনার সাধ্যের বাহিরে থাকে তাহলেযেসমস্ত মাজলীশে কুরআনের পাশাপাশি অন্যধর্মের গ্রন্থ পাঠকরা হয় সে মাজলীস ত্যাগকরতে হবে; যতক্ষণে এই কর্ম শেষ না হয় । কিন্তু মাজলীশ ত্যাগ করতেগেলে যদি জীবনের হুমকি থাকে তাহলে মাজলিশে অমনোযোগী থাকতে হবে। এবং আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার পাঠ করবে।

মহান রব ইন্টারফেইথ মতবাদের থাবা থেকে মুসলিম উম্মাহকে সজাগ হওয়ার ও ইমান রক্ষা করার তাওফিক দিন। আমিন।

 

মাওলানা তানভীর হাসান আল-মাহমুদ

   অনার্স-আল হাদীস এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ,ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

কামিল-তাফসীর বিভাগ- ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

    পরিচালকঃ কার্য নির্বাহী পরিষদ- হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)