Tuesday, December 7, 2021

ক্ষনজন্মা মহাপুরুষ মোজাদ্দিদে আজম হাফেজে কোরন ও হাফেজে হাদীস হযরত হাতেম আলী (রহ🙂 এর সংক্ষিপ্ত (অসম্পূর্ণ) জীবন ও কর্ম

 

নাম: মুহাম্মদ হাতেম আলী

উপাধীঃমোজাদ্দিদে আ’জম,বাহারুল উলূম

জন্ম: ১০ই মহররম (আনুমানিক) ১৩০১ হিজরী সনে বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানাধীন ৪নং দুধল ইউনিয়নের দুধল প্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

পিতা: মুহাম্মদ আকরাম আলী সাহেব

মাতা: মোসা: হায়াতুন্নেসা

ঘটনাবহুল জীবন ও শিক্ষা:

বাবা-মা’র অতি আদর স্নেহ-মমতা ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠতে থাকেন এক্ষনজন্মা মহাপুরুষ। জীবনের উষালগ্নেই প্রচন্ড ধীশক্তি বুৎপত্তি ও একনিষ্ঠাতা দেখে বাবা-মা, শিক্ষক, শুভাকাঙ্খী সকলে বিমুগ্ধ হয়ে ওঠেন।

এরপর সকলের পরামর্শে তৎকালীন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপিঠ নোয়াখালী ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১২/১৩ বছরের শিশু হাতেম আলী (রহ:)এর বাবা ইন্তেকাল করেন। এরপরই শুরু হয় জীবন সংগ্রামের করুন ইতিহাস। পিতৃহারা ইয়াতিম ছেলেটি তাঁর প্রচন্ড মেধা ও অনুপম আদবের মাধ্যমে উস্তাদদের বিশেষ সুনজরে আসেন। বাবার ইন্তেকালের পর কঠোর সাধনা ও সংগ্রামী মানসিকতা নিয়ে দীর্ঘ সাধনায় অত্যন্ত সাফল্যের সাথে (দেওবন্দি রুলের সর্বোচ্চ ক্লাশ) ফাজেলে দেওবন্দ সমাপ্ত করেন ।

এরপর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান বর্তমান ভারতের সাহারানপুরে। সে সময়ের অবিভক্ত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসার মধ্যে অন্যতম ছিলদারুল উলূম দেওবন্দসাহারানপুর মাদ্রাসা। সেখানে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পর তিনি পাড়ি জমান তদানিন্তন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসায়, সেখানে প্রখ্যাত শাইখুল মুহাদ্দিস আল্লামা ইয়াকুব নানুতুবি (রহঃ) এর নিবিড় তত্বাবধানে হাদীসের উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।পরবর্তিতে হাফেজে হাদীস রুপে আত্মপ্রকাশ করেন। মোজাদ্দেদে আ’যম তাঁর শিক্ষা জীবনে ইলমুত তাফসীর , ইলমুল হাদীস, ইলমুল আকাইদ, বালাগাত, ফাসাহাত, মানতেক,ইলমুস সিয়াসা (রাষ্ট্র বিজ্ঞান), ইলমুল ফিকাহের উপর অগাধ পান্ডিত্ব অর্জন করেন। ।তিনি প্রায় পাঁচটি ভাষায় অগাধ পান্ডিত্য লাভকরেছিলেন। ইলমুত তাফসীর , ইলমুল হাদীস, ইলমুল আকাইদ, বালাগাত, ফাসাহাত, মানতেক, ইলমুল ফিকাহের উপর অগাধ পান্ডিত্ব অর্জন করার পর

ইসলামী শিক্ষায় পূর্ণাঙ্গ পান্ডিত্য লাভের নিমিত্তে  ইলমে তাছাউফ বা তাজকিয়ায়ে নফসের উপর বুৎপত্তি লাভের জন্য ফুরফুরার “আবুবকর সিদ্দীক রহঃ” এর কাছে বায়াত গ্রহন করেন। আম মাহফিল ও আম তা’লীমের শিক্ষা তার জ্ঞানের পিপাসা মিটাতে না পারায় “আবুবকর সিদ্দীক (রহঃ)” এর কাছে একনিষ্টভাবে শিক্ষা লাভের আকাঙ্খা পেশকরলে “আবুবকর সিদ্দীক রহঃ” এর সম্মতিতেবছরের অবসর কালীন দু’মাস (শ্রাবন ও ভাদ্র ) তাঁর কাছে একনিষ্ঠ ভাবে ইলমে তাছাওউফের উপর ইলম অর্জন ও কঠোর রিয়াজত মোজাহাদা করেন। তিনি দুই ইলেম (ফিকাহ ও তাছাওউফ)’র এলেম পূর্ণতায় পৌছানোর পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে এ দুই মাস আবুবকর সিদ্দীক রহঃ অধীনে থেকে অবিরত সংগ্রাম চালিয়ে যান।

 

খেলাফত লাভঃ

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তি সময়ে তিনি “আবুবকর সিদ্দীক রহঃ” কাছ থেকে বায়াতের খেলাফত লাভ করেন।

বিবাহঃ ছারছিনার মরহুম পীর নেছারুদ্দীন সাহেবের প্রস্তাবে তার ভাগ্নি মুহাঃ কাসেম আল-কুরাইশী (রহঃ) কন্যা মুসাঃ আছিয়া খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

কর্ম জীবনঃ

তাঁর জীবনের ব্রত ছিল আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান পবিত্র কোরআনের শিক্ষা প্রচার করা। তিনি অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় পবিত্র কোরআনের তাফছির বা ব্যখ্যা করতেন যা সকলের সহজে বোধগম্য হতো । তাঁর তাফছিরের বিশেষ স্বকীয়তা ছিল আয়াতের বিস্তারিত ব্যখ্যার সাথে কিতালব্দ গবেষণার ভিত্তিতে অতি সংক্ষেপেএর  মূল শিক্ষা তুলে ধরা। তিনি পবিত্র কোরআনের মৌলিক শিক্ষার তাফছির প্রণয়ন করেন । যার প্রণয়ন শৈলিতে আয়াতের মৌলিক শিক্ষার উপর মূলদৃষ্টি প্রদান করেন।

তার কর্ম জীবন পর্যালোচনা করলে তিনটি ধাপ বা স্তর দেখা যায়।

১ম ধাপসমাজ সংস্কারঃ তিনি দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে সমাজ সংস্কারের কাজে হাত দেন।তিনি জনগনকে নিয়ে জমিদার প্রথা বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন।তার এলাকায় জমিদার কর্তৃক অন্যায় ভাবে খালের উজানে বাঁধ দিলে তিনি জনগন নিয়ে তা নিজহাতে কেটে দেন। জমিদার কর্তৃক প্রজাদের উপর অন্যায় ভাবে চাপানো-“২১ দফা কর” বিরোধী আন্দোলন করে ১৯ দফা কর উড্ড করতে জমিদারকে বাধ্য করেন। এর ধারাভিকতায় তিনি জমিদার প্রথা বিলুপ্তির আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।শেরে বাংলা একে ফজলুল হক্ব তাকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন। এবং জমিদার প্রথা বিলুপ্তির জন্য তারকাছে ওয়াদাবদ্ধ ছিলেন। এর পর তিনি পিছিয়ে পরা মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য শিক্ষা নীতি সংস্কার ও পরীক্ষার খাতায় রোল নং প্রবর্তনে পর্দার অন্তরালে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন।

  • তিনি ধর্মদ্রোহীদের লাগাম টানার লক্ষ্যে;তাদের আসারতাপূর্ণ ইসলাম বিদ্বেষী বিভ্রান্তকর তত্ত্ব অপনোদন করার নিমিত্তে ইসলাম বিদ্ধেষী বিভিন্ন বই, কলাম,নিবন্ধ ও লিফলেটের প্রতিবাদ গ্রন্থ প্রণনয়ন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের প্রতিরোধ ও মুসলিম জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে তার প্রণিত গ্রন্থের মধ্যে “নাস্তিকতার প্রতিরোধ, দূর্মুজ চূর্ণ” উল্লেখ যোগ্য।

 

২য় ধাপঃ

কর্মজীবনের দ্বিতীয় ধাপে ভন্ড বেশরা ফকিরদের দমন ও লা-জুমাদের প্রতিরোধকল্পে অসংখ্য বাহাস ও বই লিপিবদ্ধ করেন এর মধ্যে “বেলায়েতনূরির উক্তি খন্ডন” উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও

  • লাজুমাদের ভ্রান্ত মতবাদ খন্ডন করে জুমা প্রবর্তন।
  • হিন্দু ও বিজাতি সংস্কৃতি যেমন: ধুতি পৈতা টিকলি পড়া,লক্ষী- মনসা ও দূর্গা পুঁজায়মুসলমানদের অংশগ্রহন।এভাবে বিজাতিয় সংস্কৃতি থেকে দাওয়াত ও বহাসের মাধ্যমে মুসলিম সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার কল্পে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
  • অপসংস্কৃতি বেহায়াপনা অশ্লীলতা প্রতিরোধকল্পে সর্বসাধারণ নিয়ে একটি “অন্যায় প্রতিরোধ কমিটি” গঠন করেন। যা ব্যাপক সফলতা লাভ করে।

৩য় ধাপঃ

ইসলামের আমলি মাসয়ালার অর্ধাংশ ইলমে তাছাওউফ সম্পর্কে কথিত আলেম ও আম সমাজে- প্রচলিত মোস্তাহাব ও গাইরে শরঈ (শরিয়াত বহির্ভূত) ধারণা দূরকরনার্থে কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে ফরজ প্রমাণকল্পে অসংখ্য বাহাস ও কিতাব রচনা করেন যার মধ্যে ” ইসলাহে ক্বলব,তাছাওউফ শিক্ষা ১ম-১৫খন্ড উল্লেখ যোগ্য। এমনকি এজন্য একাধিক স্থানে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মোকাবেলা করতে হয়।যার মধ্যে ”সাধিপুর ও মির্যাপুরের যুদ্ধ” অন্যতম। মির্জাপুরের যুদ্ধে মোজাদ্দে আ’যমের ছাত্র মোঃআব্দুল মাতিন শাহাদাত বরণ করেন।

কর্মজীবনের ৩য় ও শেষ ধাপে কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে হক্ব বা সঠিক আলেম ,পীর,বক্তা ও আমীরদের পরিচয় এবংকুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে আংশিক,ভন্ড ও অযোগ্য পীরদের পরিচয় ;কিতাবের দৃষ্টিতে আলেম ও পীরের সংজ্ঞা তাদের বৈশিষ্ট্য তাদের দ্বায়িত্ব ও কিতাবের উপরে পীর, আমির কিংবা ব্যক্তির উপরে অতিভক্তির অসারতা ও তার ভয়াবহতা তুলে ধরেন।কিতাবি যোগ্যতা হীন বংশানুক্রমিক পীর প্রথার অবসান , সমাজে প্রচলিত ভূল মাসয়ালা ও ভূল শিক্ষা সংশোধন কল্পে ভূল মাসয়ালা প্রদান কারীগনকে চিঠি প্রদান করে সংশোধোনের আহবান এবং মোকাবেলামতে প্রকাশ্য বাহাসের আহবান এবং পরবর্তিতে বই প্রকাশের মধ্যমে মুসলিম সমাজকে সংশোধন ও সাবধান করার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়েছেন।এজহারে হক্ব ৭খন্ড,ইসলাম শিক্ষা,সত্যপ্রকাশএর মধ্যে অন্যতম।

কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে তাবলীগের সঠিক সংজ্ঞা এর প্রকারভেদ ; আম তাবলীগ (আমভাবে কোরআন প্রচার করা।সর্ব সাধারণকে সমভাবে আল্লাহ তায়ালার পথে আহবান করা)’র শর্ত ও রূপরেখা তুলে ধরেছেন ।এক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য কিতাব “তাবলীগ৫খণ্ড”ইসলামের পূর্ণশিক্ষার সঠিক চিত্র-কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে আলেমের সংজ্ঞা । ফরয (বাধ্যতামূল) ইলমের পূর্ণরূপ ও ইমাম গাযালী রহঃ এর অমর গ্রন্থ “এহইয়াউ উলুমিদ্দীন,আরবাঈনা-ফি-উসূলিদ্দীন,কিমিয়ায়ে সা’দাতের মৌলিক শিক্ষা বাংলাভাষায় “শরীয়াত বা ইসলামধর্ম” গ্রন্থের মাধ্যমে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সংক্ষিপ্তরুপে তুলে ধরেন ।

ফিকাহ’র মাসয়ালাকে বিস্তারিত ভাবে তুলেধরেন “ফিকাহ শিক্ষা ইবাদাত মোয়ামালাত খন্ডে” এবং তাছাওউফের মাসয়ালাকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন“তাছাওউফ শিক্ষা ১৫ খন্ড কিতাবে”

মোজাদ্দেদে আ’যম জীবনে করেন এধাপে। ইলমে তাছাওউফ (অন্তর পরিশুদ্ধির মাসয়ালা)’র ফরযিয়াতকে-কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আংশিক ও বাতিলেরসম্মিলিত-অসংখ্য বাহাস ও অগণিত ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করেন। আল্লাহর করুনায় তিনি কোনো দিন কোনো বাহাসে পরাজিত হননি । কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের বিষয়ে তিনি ছিলেন আপোষহীন ।তিনি তাঁর লিখিত সকল কিতাব ও প্রচারিত শিক্ষার বিষয়ে লিখিত চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন কিন্তু দলিলের ভিত্তিতে সফলতার সাথে কেউ এ চ্যালেঞ্জ অধ্যবদি গ্রহন করতে সক্ষম হয়নি।

ইলমী অবদান:

ইলম সুধা বিতরণের জন্য তিনি লিপিবদ্ধ করেন অসংখ্য মহামুল্যবান কিতাব। তারমধ্যে প্রাকশিত বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ সমূহ হল:

১ : পবিত্র কোরআনের (মেীলিক শিক্ষার) বাংলা তাফছীর

২ : শরীয়ত বা ইছলাম ধর্ম।

এই গ্রন্থে ইসলামের পূর্ণশিক্ষার সিলেবাস ভিত্তিতে অধ্যায় বন্টন করে ফরযজিয়াতের পূর্ণ সিলেবাস বর্ণিত হয়েছে।

৩ : তাছাউফ শিক্ষা ( ১৫ খন্ড)

এই গ্রন্থে তাছাওউফের সকল মাসয়ালা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে ।

৪।ফিকাহ শিক্ষা

এই গ্রন্থে ফিকাহকে দুটি অংশে বিভক্ত করে এবাদত অংশে -ইলম,আক্বাইদ,ত্বহারাত,নামাজ,জাকাত,রোজা,হজ্জ,তিলাওয়ালে কুরআন,জিকির ও দোয়া,তারতীবুল আওরদ এবং মোয়ামালাত অংশে খানা-পিনা, নিকাহ, রোজগার,হালাল, হারাম,দুস্তি-সোহবাত,নির্জন বাস,সফর,পিতা-মাতা আত্মীয় স্বজনে পারা-প্রতিবেশি রজা-প্রজা ইয়াতিম মিসকিন গং হক্ব, পীর ও মুরীদের/ শিক্ষক-ছাত্রের হক্ব বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

৫ : ইসলাম শিক্ষা (২ খন্ড)

৬ : ইজহারে হক (৭ খন্ড)

৭ : তাবলীগ (৫ খন্ড)

৮ : আহওয়ালে আখেরাত

এই গ্রন্থে মৃত্যু,কবর,হাশর , মিযান,পুলছিরাত,জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের সংকলন।

৯ : পর্দা

এই গ্রন্থে পর্দা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মূল তত্ত্ব মাহরিম ও গাইরে মাহরিমের পূর্ণ তালিকা বর্ণিত হয়েছে।

১০ : মানচিত্রের ধারায় অকল্পনীয় সহজ পন্থায় পবিত্র কোরআন ও পূর্নাঙ্গ দ্বীনের মেীলিক শিক্ষা

এই গ্রন্থে মানচিত্রের মাধ্যমে ফরজ ইলম শিক্ষার সিলেবাস,মানুষের অবস্থান সমূহ ,প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পূর্ণ মাসয়ালা সমুহ ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা মানচিত্রের মাধ্যমে অকল্পনীয় সহজ পদ্ধতিতে তুলে ধরা হয়েছে,যাতে খুব সহজেই বিষয়গুলো আয়ত্বে আসে।

১১: দুরমুজ চূর্ণঃএই গ্রন্থটি ধ্রর্মদ্রোহি আধুনিক শিক্ষিতদের চেতনা ধারী তদানিন্তন অন্যতম প্রসিদ্ধ আঈন জীবি ‘বি ডি হাবিবুল্লাহর’ ইসলাম বিদ্বেশি গ্রন্থ ‘দূর্মুজ’ এর প্রত্তিরবাদ গ্রন্থ।উল্লেখ্য তিনি প্রথমে শরিয়াতের ব্লাক মার্কেট নামে একটি ইসলাম বিদ্বেশি গ্রন্থ লিখেন যার প্রতিবাদে বিভিন্ন যায়গা থেকে প্রায় ৮টি প্রতিবাদ গ্রন্থ বের হয় যার প্রতি-উত্তরে বি ডি হাবিবুল্লাহ-‘দূর্মুজ’ নামক বই লিখেন।কিন্তু মোজাদ্দেদে আ’জম হযরত হাতেম আলী রহঃ কর্তৃক লিখিত প্রতিবাদ গ্রন্থ ” দূর্মুজ চূর্ণ'” এর প্রতিবাদে আর বি ডি হাবিবুল্লাহ বা তার কোন সহযোগী কলম ধরতে সাহস করেনি।

১২। নাস্তিকতার প্রতিরোধ

এই গ্রন্থটি একটি প্রবন্দ সংকলন।মাসিক অনন্যা পত্রিকায় ছালেহা বেগম লিখিত “ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষা” শিরোনামে লিখিত ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষি প্রবন্দের প্রতিবাদে উক্ত হযরত হাতেম আলী রহঃ কর্তৃক পত্রিকায় পাঠানো প্রতিবাদ লিপিকে কেন্দ্র করে এ গ্রন্থে মোট নয়টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।মৃত্যু,কবর,আখেরাত,হাশর নিয়ে নাস্তিকদের কল্পনা প্রসুত যুক্তি খন্ডনের পাশাপাশি । সাহাবা ও তাবেঈদের সাথে নাস্তিকদের কিছু বাহাসের বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়েছে

১৩ : বন্দেগী

এই গ্রন্থে বন্দেগীর সঠিক রুপ-রেখা তুলে ধরা হয়েছে।

১৪: ইছলাহে ক্বলব

এই গ্রন্থে কলবের ইসলাহের জন্য ফিকাহ ও তাছাওউফ তত্ত্ববিদ আলেম শিক্ষক (পীর)’র মাধ্যমে তাছাওউফ বা ইলমে ক্বলবের মাসয়ালা শিক্ষা করার বাধ্যবাদকতা। কামেল ও নাকেস পীরদের পরিচয় , পীরের প্রতি অন্ধ ভক্তি বা পীর পুজার ভয়াবহতা কুরআন সুন্নাহ ও অতীত যুগের ইমাম মুজতাহিদদের কিতাবের অকাট্য দলিলের ইবারত সহ তুলে ধরা হয়েছে।

১৫: সত্য প্রকাশ বা ধুম বিনাশ পুস্তিকার প্রতিবাদ

১৬: ত্বরিক্বত শিক্ষা– এই গ্রন্থে জিকরুত ত্বরিক্বত ও ইলমুত ত্বরিক্বতের সঠিক রুপরেখা তুলে ধরেছেন।

১৭: রাজতন্ত্র ও গনতন্ত্র (৯খন্ড)

মুসলিমদের জাতীয় ও রাজনৈতিক দিকদর্শনের জন্যপ্রণিত এ গ্রন্থে রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ব্যাপারে কোরআনের স্পষ্ট ভাষ্যকে প্রতিপাদ্যকরে এই গ্রন্থে কোরআন ও সুন্নাহ’র দৃষ্টিতে রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের অবস্থান। মুসলিমদের রাষ্ট্র পরিচালনা ও জননেতা নির্বাচনের ব্যপারে ইসলামের পদ্ধতি;নেতা ও নেতা নির্বাচনকারী জনগনের আবশ্যকীয় যোগ্যতা এবং বিজাতী রাষ্ট্রের সাথে মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট্র রাষ্ট্রের আদর্শনীতি কি হবে তা -কোর আন ও সুন্নাহের মাধ্যমে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে ।

এ ছাড়াও তার লিখিত কিতাবের সংখ্যা ৩০ এর অধিক।

পূর্ণাঙ্গ ইসলামের সঠিক রুপরেখা পুনরুদ্ধার কল্পে  হাজার হাজার বহস করে মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক রুপকে  উপস্থাপন করেছেন।

শিরক, বিদায়াত, ভ্রান্তমতবাদ সমূহের বিরুদ্ধে সঠিক দ্বীন ইসলামের দাওয়াতকে প্রতিটি মানুষের কাছে পেীছে দেয়ার জন্য তিনি আমরন সংগ্রাম করে গেছেন। বাংলার দক্ষিন থেকে উত্তরে পায়ে হেটে সফর করেছেনএ ছাড়াও দাওয়াতী কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা,মাসজিদও খানকাহ) প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ইন্তেকাল:

এ ক্ষনজন্মা মুজাদ্দিদ ।১লা জুন -১৯৭৬, ২রা জমাদিউস সানি ১৩৯৬, ১৮ই জৈষ্ঠ্য ১৩৮৩ বাংলরোজ মঙ্গলবার সকাল বেলায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করে মহান প্রভূর সান্নিধ্যে পাড়ি জমান।