Tuesday, February 3, 2026
Home Blog Page 2

দুধল দরবারের বিবৃতি- শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার খুনিদের অনতিবিলম্বে ফাসি দিতে হবে।

0
শহীদ ওমর ফারুক

শহীদ ওমর ফারুক
নও মুসলিম ওমর ফারুক হত্যার প্রতিবাদে সরব হন।বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার মৃত তয়ারাম ত্রিপুরার ছেলে বেরন চন্দ্র ত্রিপুরা। ৬ বছর আগে ২০১৪ সালে খ্রিস্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। মুসলিম হয়ে নাম পরিবর্তন করে রাখেন ওমর ফারুক। এরপর একটি মুসলিম এনজিওর মাধ্যমে ধর্মীয় বিধিবিধান শেখেন। নিজের পরিবারের অন্য সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তার দাওয়াতে এলাকার আরও ১০-১২ জন মানুষ মুসলিম হন। এরপর তিনি নিজের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন । এলাকায় অন্য কোনো শিক্ষিত মানুষ না থাকায় নওমুসলিম ওমর ফারুক নিজেই এই মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। ইসলাম গ্রহণ ও বাংলাদেশের অখন্ডতায় বিশ্বাস করার কারণে অনেকদিন থেকেই নওমুসলিম ওমর ফারুককে বিদেশি মদদপুষ্ট স্থানীয় খ্রিষ্টান মিশনারি ও সন্তু লরমা সংশ্লিষ্ট পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মসজিদে নামাজ আদায়ের পর ঘরে ফেরার পথে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। শহীদ ওমর ফারুকের কন্যার ভাষ্যমতে তাকে গুলি করার পূর্বেও দুটি অপশন থেকে একটি বাছাই করতে বলাহয়েছিল। ইসলাম ত্যাগের মাধ্যমে জীবন ভিক্ষা অথবা মৃত্যু ! তিনি যে কোনো কিছুর বিনিময়ে একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামকে বেছে নেন। সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে স্থান ত্যাগ করে। দুধল দরবারের পক্ষ থেকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা এই হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই । য়ামরা বিশ্বাস করি ওমর ফারুক রহঃ জান্নাতে পারি জমালেও আমাদেরকে ইসলাম ও এদেশের সার্বভৌমত্য রক্ষার দ্বায়িত্ব প্রদান করে গিয়েছেন ; জীবনের বিনিময়ে হলেও তা রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য । প্রত্যকে ইমানের সর্ব নিæ দ্ববি থেকে শহীদ ওমর ফারুক হত্যার বিচারের দাবিতে স্বস্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হোন। দল-মত নির্বিশেষে পাহারি দেশোদ্রোহী বিদেশী এজেন্টদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ হোন। পাহারি সন্ত্রাসীদের গায়ে সামান্য আচর লাগলেও যে সমস্ত কথিত বুদ্ধিজীবিদের মানবতার মায়াকান্না করতে দেখি তারা আ চুপ কেন জাতি জানতে চায় ? তাদের এই দ্বিচারিতাই দেশের সার্বভৌমত্যের বিরুদ্ধে তাদের মুখোশ উন্মুক্ত কওে দিয়েছে। তাই এই সমস্ত বিদেশী এন্টদের কার্যক্রমের উপরে নজরদারি বাড়ানোর জন্য মাননীয় সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এদের থেকে আপমর জনতাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।
সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি যেকোনো মূল্যে শহীদ ওমর ফারুকের খুনিদের আইনের আওতায় এনে প্রকাশ্যে ফাসির মঞ্চে বা ফায়ারিং স্কয়াডে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করুন। এটা কেবল একজন দেশ প্রেমি মুসলিম হত্যা নয় বরং স্বাধিনতা ও সংবিধানের বুকে গুলি ছোড়া হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের বিচার করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য অঞ্চলকে আরেকটি পূর্ব তিমুর বানাবে , যা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো বিবেচনাতেই শুভ ফল বয়ে আনবেনা।

মাওঃ তানভীর হাসান আল-মাহমুদ
পরিচালক- কার্য নির্বাহী পরিষদ
হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF) ,(মুখপাত্র -দুধল দরবার শরীফ)
বরিশাল, বাংলাদেশ ।

মোজাদ্দেদে আজমের ৪৫ তম ইন্তেকাল বার্ষিকীর শোকবার্তা

0

মোজাদ্দেদে আজম হযরত হাতেম আলী রহঃ তার জীবনের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে আল্লাহর জমিনে আল্লাহ্‌র মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করেছেন। তার জীবনের প্রতিটি কর্ম বিশ্লেষণ করলে রাসূলুল্লাহ সঃ এর বাতানো সুন্নাহই প্রস্ফুটিত হয়। দারুলউলুম দেওবন্দ থেকে
শিক্ষা জীবন শেষকরে যেমন জমিদারদের শোষণ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিজাতীয় সংস্কৃতি ও নাস্তিকতার গ্রাস থেকে মুসলিম উম্মাহকে বাচাতে লড়াই করেছেন।
ফুরফুরার আবুবকর সিদ্দীক ফুরফুরাভী রহঃ এর নির্দেশে কর্ম জীবনের পুরো অংশই দ্বীন প্রচারে বিলিয়ে দিয়েছেন। সমাজ থেকে বিলুপ্ত ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রুপরেখা কোরআন-সুন্নাহ’র দলীলের মাধ্যমে পূণরুদ্ধার করেন। বিশেষত শরীয়াতের আমলী মাসয়ালার অর্ধাংশ তাযকিয়্যাতুন নফস বা ইলমে তাছাওউফকে যখন মোস্তাহাব এমনকি গাইরে শরয়ী বলে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল ঠিক সে মুহুর্তে অসংখ্য বাহাস ও লেখনির মাধ্যমে তার ফরজিয়াত প্রমাণ করেছেন এবং তাছাওউফ অর্জনে কিতাবি ধারায় সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা করে কিতাব রচনা করেছেন। যা উম্মাহর কল্যাণে কিয়ামত পর্যন্ত এক অমূল্য রত্ন হয়ে আছে।
তার কিতাবে সঠিক আলেম ও পীরদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি, তাদের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্যগগুলো তুলেধরেছেন।
উম্মাহকে সঠিক পথে চালাতে ইসলামের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক দর্শন তুলেধরে রাজতন্ত্র-গণতন্ত্র নামে ৯ খন্ডে কিতাব লিখেছেন।
উম্মাহ যাতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে ইসলামি জীবন যাপন করতে পারে এজন্য কুর আনের মৌলিক শিক্ষার ব্যতিক্রমী তাফসীর লেখার পাশাপাশি প্রায় ৩০ খানা কিতাব রেখেগেছেন। এক কথায় তার জীবনের একমাত্র মিশন ছিল ব্যক্তি,পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিধান প্রতিষ্ঠা করা। তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এ মিশন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নিংড়ে দিয়েছেন। ১৯৭৬ সালের ১লা জুন যখন মহান রবের ডাকে সাড়া দেন তখনও তার হাতে কিতাব ছিল। তিনি চিরনিন্দ্রায় শায়িত হওয়ার পড়ে হাত থেকে তার বুকের উপরে জড়িয়ে ছিল অমর হাদীস গ্রন্থ “সহীহুল বুখারি”। আজ তার ৪৫ তম ইন্তেকাল বার্ষিকি।মোজাদ্দেদে আজম হাতেম আলী (রহঃ) ইন্তেকাল করলেও তার কর্মের মাধ্যমে আমদের মাঝে অমর হয়ে আছেন।তার মিশনকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়া আমাদের দ্বায়িত্ব। তার লেখা প্রতিটি লাইন আমাদেরকে দ্বায়িত্ব পালনের তাগিদ দেয়। ঠিক তেমনি মরহুম নায়েবে রাসূল, শাইখুল ইসলাম আব্দুল ওয়াহিদ রহঃ এর প্রতিষ্ঠিত হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF) আমাদের জিম্মাদারিকে আরো উচ্চতায় নিয়েগেছে। মোজাদ্দেদে আজমের ৪৫ তম বার্ষিকিতে তাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।মহান রবের নিকট আর্যি পেশ করছি তার প্রিয় এই বান্দাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সম্মানিত স্থানে স্থান দিক। আমাদেরকে তার সাথে হাউজে কাউসারের পানি পানে বিশ্বনবীর কাছে একত্রিত করুন। আজ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমরা তার রেখে যাওয়া মিশনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করছি। দলমত নির্বিশেষে ইসলাম জারি-কায়েম এ মহান মিশনে অংশিদার হিসেবে আপনাদের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।

দুধল পীরসাহেবের পক্ষে
মাওঃ তানভীর হাসান আল-মাহমুদ
পরিচাল-কার্য নির্বাহী পরিষদ
হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)

ঈদ মোবারক

0

শাইখুল ইসলাম আব্দুল ওয়াহিদ রহঃ এর ৭ম ইন্তেকাল বার্ষিকিতে শোক বার্তা।

0

আজ শাইখুল ইসলাম, শাইখুল হাদীস মরহুম নায়েবে রাসূল শাহ মুহাঃ আব্দুল ওয়াহিদ (রহঃ)’র ৭ম ইন্তেকাল বার্ষিকী। মোজাদ্দেদে আ’জমে হযরত হাতেম আলী রহঃ এর উত্তরসূরি এই মহান মানুষটি ৩০ বছর বয়সে খানায়ে কা’বার সামনে বসে খিলাফত লাভ করেন। দুধল দরবার শরীফকে শিরক বিদয়াত মুক্ত, রেখে আল্লাহ্ জমীনে আল্লাহর দেয়া জীবন ব্যবস্থা ইসলামের পূর্ণ শিক্ষা ও আমল জারি কায়েমের মারকাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সফলভাবে সক্ষম হন।

এজন্য মরহুম নায়েবে রাসূল তার জীবনের অধিকাংশ সময়কে ব্যয় দ্বীন প্রতিষ্ঠার মহান কাজেই ব্যয় করেন।

বহু দ্বীনি দারস্গাহ প্রতিষ্ঠা করে অগণিত অনুরাগীদের কাঁদিয়ে ২০১৫ সালের (৭ই মে) আজকের এই দিনে আল্লাহ্র ডাকে সাড়া দিয়ে আখেরাতের পথে পাড়ি জমান।

আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও শোকাহত হৃদয় নিয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম কামনা করছি। তার রেখে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ দ্বীন জারি কায়েমের মিশনকে আগিয়ে নিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত “হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF) এর কার্যক্রম আমানতদারীর সাথে চালিয়ে যেতে পারি এজন্য মহান রবের সাহায্য কামনা করছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করছি। পূর্ণাঙ্গ দ্বীন প্রতিষ্ঠার মারকাজ দুধল দরবার শরীফ সুন্নত তরিকার উপর কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকুক তা আন্তরিকভাবে কামনা করছি।

মাজলীশে শুরা ও কার্য নির্বাহী পরিষদ হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)

মহান স্বাধীনতা দিবস

0
স্বাধীনতা-দিবস

জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের এ মহান স্বাধীনতা দিবসে স্মরণ করছি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন।

বিশেষ করে অখন্ড স্বাধীন বঙ্গভূমির সর্বশেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদৌলার কাছ থেকে মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাস ঘাতকতার সুযোগে রক্তচোষা বিশ্বখুনি #ইংরেজরা পলাশির আম্র কাননে বঙ্গ স্বাধীনতার সুর্যকে গলাটিপে ধরে যে স্বাধীনতাকে খুনকরে ছিল। তা থেকে মুক্তি পেতে লাখো আলেম,সাধারণ মুসলমান ও স্বাধীনতা প্রেমীদের রক্তের স্রোত প্রথমে স্বাধীনতার ভিত্তি এনে দিয়েছিল। ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে কিন্তু এদেশের মেহনতি মানুষের রক্তচোষা জমিদার শ্রেণি কলকাতার দাদাদের ষড়যন্ত্রে ১৯১১ তে সে স্বাধীতার স্বপ্নকে খুন করার (অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ রদ) মাধ্যমে প্রথম আঘাত আসে। অতঃপর দেশ বিভাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার যাত্রা গতি পেয়ে ২৩ বছরের অর্থনৈতিক,সামাজিক,মানবিক বৈষম্যকে ছিন্ন করতে ১৯৭১ এ দিনে মুক্তি সংগ্রামের চুরান্ত সূচনা হয়। যা স্বশস্ত্র সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তিম পথ পেড়িয়ে বহু আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পূণরায় বাংলার আকাশে ওঠে স্বাধীনতার পূর্ণ সূর্য।

তাই আবারো স্মরণ করছি ১৭৫৭ এর ২৩শে জুন পলাশির আম্র কানন থেকে একাত্তরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাকে স্বাধীন করার নিমিত্তে সকল আত্মত্যাগীদের।

স্বাধীনতা অর্জন করলেও সম্রাজ্যবাদীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে আজও পূর্ণ মুক্তি পায়নি প্রিয় মাতৃভূমি! যার ফলে ভারতীয় সীমান্ত হানাদারদের গুলিতে প্রতিনিয়ত সীমান্তে বেড়েই নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের মৃত্যু মিছিল। স্বাধীনতার সুরক্ষা চাওয়ায় আবরারদের খুন হতে হচ্ছে নির্মমভাবে।
একই সাথে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেরাজালে আটকে আছে রোহিঙ্গা ইস্যু। যে ইস্যুতে বন্ধুত্বের বুলি আওড়ানো প্রতিবেশীও ছিল মিরজাফরের ভুমিকায়।

সবশেষে আজকের এই মহান দিনে কামনা করছি সকল ষড়যন্ত্র ও সম্রাজ্যবাদীদের কালো থাবা থেকে পূর্ণভাবে মুক্তিপেয়ে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পাক প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

মাওঃ তানভীর হাসান আল-মাহমুদ
পরিচালক-কার্য নির্বাহী পরিষদ
হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)

ন্যায়বিচার কায়েম করার গুরুত্ব

0

আদর্শ সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব কর্তব্য 2024

0

ইসলামে সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য: কোরআন ও হাদিসের আলোকে

সন্তানের প্রতি পিতা মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য ইসলাম ধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পিতা-মাতার দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন এবং হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

১. সুশিক্ষা প্রদান

ইসলামে জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন” (সূরা আলাক, ৯৬:১)। এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে জ্ঞান অর্জন প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার প্রধান দায়িত্ব সন্তানের জন্য একটি সঠিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। ইসলামে শুধু সাধারণ শিক্ষাই নয়, নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাও সমান গুরুত্বের। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক সন্তান জন্মগ্রহণ করে ফিতরাত বা প্রাকৃতিক ধর্মের উপর; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, নাসারা বা মজুসী বানিয়ে ফেলে” (সহীহ মুসলিম)। তাই পিতা-মাতার দায়িত্ব হল সন্তানকে ইসলামের নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা।

২. সন্তানের প্রতি পিতা মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য আখলাক বা চরিত্র গঠন

সন্তানের সুশিক্ষার পাশাপাশি তাদের আখলাক বা চরিত্র গঠনেও ইসলামে পিতা-মাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার উচিত তাদের সন্তানকে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা, যেন তারা সত্যবাদী, সৎ, দয়ালু ও দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে উঠতে পারে। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আপনি (রাসূল) মহান চরিত্রের অধিকারী” (সূরা আল-কলাম, ৬৮:৪)। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বোত্তম চরিত্রের আদর্শ ছিলেন, এবং পিতা-মাতার উচিত এই আদর্শকে সন্তানের মধ্যে প্রোথিত করা।

৩. নামের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা

সন্তানের জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা ইসলামে পিতা-মাতার অন্যতম কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের সন্তানদের সুন্দর নাম রাখো, কারণ তোমরা কিয়ামতের দিন তাদের নাম দিয়ে ডাকা হবে” (আবু দাউদ)। নামের মাধ্যমে সন্তানকে পরিচয় প্রদান করা এবং তাদের উপর ভাল প্রভাব ফেলা যায়। তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন

শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য পিতা-মাতার ভালোবাসা ও যত্ন অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) ছোটদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য উৎসাহিত করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার এক বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনলেন, “তোমরা কি তোমাদের সন্তানদের চুম্বন করো? আমি তো আমার দশ সন্তানকে কখনও চুম্বন করিনি!” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “যে ব্যক্তি দয়া করে না, তার উপরও দয়া করা হয় না” (সহীহ বুখারি)। পিতা-মাতার ভালবাসা সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সহায়ক।

৫. ইসলামিক আচার-আচরণ শেখানো

ইসলামে প্রতিটি মুসলিমের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কিছু আচার-আচরণ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, যা সন্তানদের শিখিয়ে দেওয়া পিতা-মাতার দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য শাসন কর” (আবু দাউদ)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, পিতা-মাতার দায়িত্ব হল শিশুদের ধর্মীয় বিধান মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা। বিশেষ করে, ছোটবেলা থেকেই তাদের নামাজ, রোজা, এবং ইসলামের অন্যান্য ফরজ বিধান পালনের শিক্ষা দেওয়া।

৬. সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার করা

ইসলামে সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিতা-মাতার উচিত তাদের সমস্ত সন্তানদের সমান ভালোবাসা এবং যত্ন দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো” (সহীহ বুখারি)। সন্তানদের মধ্যে কোনরকম পক্ষপাতিত্ব করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সন্তানদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি হতে পারে।

৭. দোয়া করা

পিতা-মাতার দায়িত্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল তাদের সন্তানদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। কোরআনে বলা হয়েছে, “হে আমার পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে সেই দিন ক্ষমা করো, যেদিন হিসাব নেওয়া হবে” (সূরা ইব্রাহীম, ১৪:৪১)। পিতা-মাতার দোয়া সন্তানের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ।

জনপ্রীয় উর্দু গজল

0

“কমান্ডো” সিনেমা বন্ধে সরকারের প্রতি দুধল দরবারের খোলা চিঠি

0
কমান্ডো সিনেমা, প্রতিবাদ
“কমান্ডো” সিনেমা বন্ধে সরকারের প্রতি দুধল দরবারের খোলা চিঠি

আমরা সোস্যাল মিডিয়া মারফত জানতে পেরেছি “কমান্ডো” নামক একটি সিনেমা রিলিজ হতে যাচ্ছে যাতে প্রিয় নবী (সঃ) এর সুন্নাতি পোশাককে সন্ত্রাসী পোশাক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে  এবং তাওহীদের স্লোগান “নারায়ে তাকবির-আল­াহু আকবারকে” সন্ত্রাসীদের স্লোগান এবং পবিত্র কালিমাকে সন্ত্রাসীদের ব্যানার দেখানো হয়েছে। যা মুসলিম উম্মাহর ইমান ও অনুভুতিতে সরাসরি আঘাত করেছে। যখন আমাদের আইন রক্ষাকারি সংস্থা গুলোর কঠোর পরিশ্রমে এদেশে  স্বসস্ত্র সংগঠনের  অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করেছে ঠিক তখন এধরণের মিথ্যা আশ্রিত কাল্পনিক  সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে বিদেশের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সন্ত্রাসিদের অভয়ারণ্য দেখানোর মাধ্যমে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে ।যা সরাসরি দেশদ্রোহীতার শামিল বলে আমরা মনেকরি।

 একই সাথে এই সিনেমায় আমলদার মুসলমানদের সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জোড় গলায় বলেছেন সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নাই, ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোনো স¤পর্ক নাই। তাহলে আমাদের প্রশ্ন বার বার কেন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সন্ত্রাসের সাথে ইসলামকে জুড়ে দেয়া হয় ? দাড়ি ট‚পিকে সন্ত্রাসী লেবাস দেয়া হয় কেন? অথচ

হলি আর্টিজেন সহ সা¤প্রতিক সকল সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের মধ্যে কোনো মাদ্রাসার ছাত্রকে পাওয়া খুজে পাওয়া যায়নাই।

দুধল দরবার শরীফের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি এই মূহুর্তে “কমান্ডো “ সিনেমার অনুমতি বাতিল করে পরিচালক সহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল দেশদ্রোহীদের গ্রেফতার করে দেশ মুসলিমদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করুন। এবং সকল সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে সুন্নতি পোশাককে নেগিটিভ হিসেবে তুলে ধরার বিরুদ্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

তাওহীদি জনতার প্রতি অনুরোধ আপনারা ইসলাম বিরোধী এই সিনেমার বিরুদ্ধে ইমান রক্ষার নিমিত্তে অনলাইন ও ময়দানে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন । উক্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আহুত সকল শান্তিপুর্ণ কর্মসূতি যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ও সহযোগীতার আহবান জানাচ্ছি।