তারেক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিমদের স্পেন বিজয়
তোমারি বিদায়ে। মারসিয়া
<iframe width=”640″ height=”360″ src=”https://www.youtube.com/embed/zGyNjkj51BM” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture” allowfullscreen></iframe>
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা প্রসঙ্গে দুধল পীর সাহেব হুজুরের বিবৃতি
“নুসরাত জাহান রাফি হত্যার প্রতিবাদে দুধল পীর সাহেব হুজুরের বিবৃতি
সম্মানিত দেশবাসী, আমিঅত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় বলছি নিশ্চয়ই আপনারা মিডিয়ার কল্যানে অবগত রয়েছেন ফেনীর সোনাগাজীতে লালসার বলি করে অন্যায়ের প্রতিবাদকারী প্রিয় বোন”নুসরাত জাহান রাফি”কে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। যা আমাদেরকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। তাই প্রথমেই আমি শোকাহত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে তার শাহাদাতের দরজা ও জান্নাতের উচ্চ মাকাম কামনা করছি।
আলেম সমাজের লেবাসধারী এই কুলাঙ্গার সিরাজুদদৌলা ও তারসহযোগী দোসরদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালে আওতায় এনে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি করছি এবং দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে জানাচ্ছি তার সাথে ইসলাম, মুসলমান ও আলেম সমাজ এমনকি মানবতার সাথে কোন স¤পর্ক নাই। অপরাধীর পরিয় কেবল অপরাধীই তার কোনো নির্দিষ্ট লেবাস বা কোন রঙ নাই।এ জাতীয় জাহিলিয়্যাতের বর্বরতাকে রুখে দিয়ে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ নির্মানের জন্যই ইসলাম এসেছিল। যা আমাদের অতীত ইতিহাস প্রমানকরে। হিন্দু মেয়ের উপর শ্লীলতাহানি করতে গিয়ে দিল্লিতে তে মহান মুসলিম সম্রাট জাহাঙ্গিরের হতে গর্দান হারানো যুবক কিংবা একজন মুসলিম তরুনীর শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদে আরব থেকে সিন্ধুবিজয়ের লক্ষ্যে ছুটে আসা মুহাম্মদ বিন কাসিম যার জ্বলন্ত প্রমান।
একই সাথে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই এই হত্যাকাণ্ড করার দুঃসাহস তারা কখনো পেতনা যদি, যৌনহয়রানির অভিযোগ দায়ের করার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হতো। ওসি মুজাম্মেল নুসরাতকে মামলায় সহযোগীতার পরিবর্তে হেনস্থা করে খুনিদের প্ররোচিত করেছে তাই তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য মদদদাতাদের খুজে বিচারের আওতায় আনা হোক এবং খুনির পক্ষে যারা মিছিল মিটিং করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক। যাতে এরুপ ঘটনার পূনরাবৃতি আর না হয় সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সব শেষে আমি দুধল দরবারের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, মুসলিম উম্মাহ এবং দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দ্রুত বিচারের জন্য সকল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আপনারা যারযার অবস্থান থেকে অংশ গ্রহণ করবেন।
পরিশেষে আবারো রব্বেকারীমের দরবারে রাফির শাহাদাতের দরজা ও মাগফিরাত কামনা করছি। রাফি হত্যার সাথে জরিত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।
(দুধল পীর সাহেব হুজুরের পক্ষে)
মাওঃমুহাঃতানভীরহাসানআল-মাহমুদ
পরিচালক (কার্যনির্বাহী পরিষদ)
হযরত হাতেম আলী রহঃ ফাউন্ডেশন (HARF)
পহেলা বৈশাখে হিন্দুয়ানী কালচার পালন করা সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী!
পহেলা বৈশাখ উদ্ভাবনের ইতিহাস
১৪ এপ্রিল ফসলী বাংলা সন শুরু হয়। বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিন বৈশাখের ১ তারিখ বা পহেলা বৈশাখ।
আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরী সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজ-কর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরী সন চান্দ্র মাস হিসেবে প্রবর্তিত। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরর চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ, সৌর বৎসর ৩৬৫ দিনে, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিনে হয়। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলো ঠিক থাকে না। অথচ চাষাবাদ ও এ জাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবারের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খৃস্টাব্দে সম্রাট আকবার এ হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহণের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ইতোপূর্বে বঙ্গে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্চির প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরী সালের মুহাররাম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস। এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে বাংলা সনের প্রথম দিন ধার্য করা হয়েছে।
পহেলা বৈশাখে উৎসব পালনের রীতির প্রবর্তন
উপরের আলোচনা দ্বারা বুঝা গিয়েছে—বাংলা সন মূলত হিজরী সন অর্থাৎ তা হিজরী চান্দ্র সনের সৌর রূপ। যদ্দরুণ হিজরী সনের ন্যায় বাংলা সনের গণনা রাসূলুল্লাহ-এর হিজরত থেকেই শুরু করা হয়েছে। ১৪১৫ বঙ্গাব্দ অর্থ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পর ১৪১৫ বৎসর। ৯৬২ চান্দ্র বৎসর ও পরবর্তী ৪৫৩ বৎসর সৌর বৎসর। সৌর বৎসর চান্দ্র বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন বেশী এবং প্রতি ৩০ বৎসরে চান্দ্র বৎসর এক বৎসর বেড়ে যায়। এ হিসেবেই বর্তমানে ১৪৩৭ হিজরী সন মোতাবেক বাংলা ১৪২২-১৪২৩ সন হয়েছে।
অতএব, বাংলা সন মুসলমানদেরই সন এবং এটা ইসলামী হিজরী সনেরই উপর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সন—যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের স্মারক। তাই এ সনের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষ্টি-কালচার ইসলামী কৃষ্টি-কালচারের বাইরে যেতে পারে না।
তাই তো মোগল আমলে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ আরম্ভের প্রাক্কালে প্রজারা চৈত্রমাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে সেই খুশীতে জমিদারগণ প্রজাদেরকে মিষ্টিমুখ করাতেন। এছাড়া বাংলার ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে নতুন সনের হিসাবের জন্য ‘হালখাতা’ করতেন। পহেলা বৈশাখ এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এভাবে এটি মূলতঃ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন নিয়ম-কানুনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সুষ্ঠুভাবে কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। এভাবে তার কার্যক্রম ইসলামসম্মতই ছিলো।
কিন্তু পরবর্তীতে পুরাতন বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ বরণের নামে চৈত্রের শেষ দিন ও পহেলা বৈশাখে হিন্দুরা নানারকম পূর্জা-অর্চনার উদ্ভব ঘটায় এবং তাদের দেবী-দেবীর বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে এ দিনকে তারা তাদের ধর্মীয় কায়দায় উদযাপন শুরু করে। হিন্দুদের ঘটপূজা, গণেশ পূজা, সিদ্ধেশ্বরী পূজা, চৈত্রক্রান্তি পূজা-অর্চনা, হিন্দুদের চড়ক বা নীল পূজা ও সংশ্লিষ্ট মেলা, গম্ভীরা পূজা, কুমীরের পূজা, অগ্নিনৃত্য, ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব, চাকমাদের বিজু উৎসব (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজা উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি), হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা, মজুসি তথা অগ্নিপূজকদের নওরোজ, হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা, সূর্যপূজা প্রভৃতি একে উপলক্ষ করেই উদযাপন করা হয়।
এক্ষেত্রে গণেশ পুজার ‘মঙ্গল যাত্রা’ থেকে নেয়া হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, ‘চৈত্র সংক্রান্তি পুজা’ থেকে নেয়া হয়েছে চৈত্রসংক্রান্তি, হিন্দু-বৌদ্ধদের ‘উল্কিপূজা’ থেকে নেয়া উল্কি উৎসব, বিভিন্ন হিংস্র-অহিংস্র জীব-জন্তু পুজা থেকে নেয়া হয়েছে রাক্ষস-খোক্ষসের মুখোশ, পেঁচা, ময়ূর, বাঘ-ভাল্লুক, সাপ, বিচ্ছু, কুমির ও বিভিন্ন দেব-দেবীর বড় বড় মূর্তি, ছবি ও মুখোশ প্রভৃতির উৎসব, হিন্দুদের ‘আশ্বিনে রান্না কার্তিকে খাওয়া’ প্রথার আদলে চৈত্রের শেষদিনে রান্না করা অন্নে পানি ঢেলে পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা খাওয়ার প্রথা এবং পুজোর অপরিহার্য আইটেম ঢোল-তবলা, কুলা ও হিন্দু রমনীর লাল সিঁদুরের অবিকল লালটিপ এবং পুজোর লেবাস সাদা শাড়ী ইত্যাদি হলো পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রধান উপাদান! যার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখকে হিন্দুরা তাদের পূজার আদলে উদযাপন করে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, মুসলমানগণ না বুঝে হিন্দুদের সেই পূর্জা-অর্চনার কুফরী কালচারে অংশগ্রহণ করে তাদের ঈমানকে নষ্ট করছেন। হিন্দুদের বিভিন্ন দেব-দেবী থেকে বিভিন্ন বিষয় পাওয়ার নামে তারা শিরক মহাপাপে লিপ্ত হচ্ছেন।
পহেলা বৈশাখে প্রচলিত উৎসব পালনের হুকুম
———————————————-
বস্তুত সকল কিছুর মালিক আল্লাহ তা‘আলা। তাই সব ব্যাপারে আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করতে হবে এবং তারই ইবাদত করতে হবে। তার স্থলে বা সহযোগী ভেবে কোন দেবী-দেবতার কাছে এসব কামনা করলে কিংবা যারা তা করে তাদের সাথে শামিল হলে, ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। এ সবই কুফরী কালচার। অথচ মঙ্গল শোভা যাত্রার নামে যে র্যালি বের করা হয়, এখানে গাইরুল্লাহর কাছে নতুন বছরের মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করা হয়। ইসলামের বিশ্বাস মতে, কোন জীবজন্তু, বন্যপ্রাণী ও দেবদেবীর কাছে কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করলে তার ঈমান থাকবে না। সে ঈমানহারা কাফের হয়ে যাবে।
সেই সাথে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও অশ্লীলতা-বেলেল্লাপনার মহড়া এবং বাঙালী কালচারের নামে গরীবদের প্রতি উপহাসমূলক পান্তা খাওয়ার অপসংস্কৃতি একে কদার্যতায় পর্যবসিত করেছে। অপরদিকে শরীরে উল্কি আঁকা, বিভিন্ন জানোয়ারের মুখোশ পরা প্রভৃতি কুকালচার মুসলমানদের ইসলামী মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে চলেছে। (নাউযুবিল্লাহ)
বস্তুত কোন মুসলমানের জন্য শরীরে উল্কী অঙ্কন করা জায়িয নয়। তা সম্পূর্ণ হারাম। আর বেগানা নারী-পুরুষ একে অপরকে উল্কি এঁকে দেয়া তো আরো মারাত্মক গর্হিত কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে আঁকে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর লা‘নত করেন।”(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৪৭৭)
তেমনি জীব-জন্তুর ছবি আঁকা ও মুখোশ পরাও হারাম। ইসলামে প্রতিকৃতি কিংবা জীবন্ত বস্তুর ছবি তৈরী করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সা.) বলেন : “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে (জীবন্ত বস্তুর) ছবি বা প্রতীমা তৈরীকারীরা।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৫০/ সহীহ মুসলিম. হাদীস নং ২১০৯)
অনুরূপ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : “যে কেউ ছবি বা প্রতীমা তৈরী করবে, আল্লাহ তাকে (কিয়ামতের দিন) ততক্ষণ শাস্তি দিতে থাকবেন যতক্ষণ না সে এতে প্রাণ সঞ্চার করে, আর সে কখনোই তা করতে সমর্থ হবে না।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২২৫/ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১১০)
অপরদিকে মঙ্গল শোভা যাত্রা, পূজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, গান বাজনা, বিভিন্ন পাখির ছবি, মুখোশ বা প্রতীমা তৈরি এসবই স্পষ্ট বিজাতীয় কালচার–যা পালন করা মুসলমানদের জন্য হারাম। মুশরিকদের এসব কালচারে মুসলমানদের শামিল হওয়া কিয়ামতের আলামত বৈকি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত ঘটবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং যতক্ষণ না তারা মূর্তি পূজা করবে।” (জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ২২১৯)
মুসলমানদের উৎসবের স্বরূপ
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا، فَقَالَ: مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا: كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ
“রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন মদীনাবাসীদের দু’টি দিবস ছিল, যে সময় তারা খেলাধুলা, রঙ-তামাশা ইত্যাদি উৎসব করতেন। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : এ দু’টি দিবস কী? তারা বললেন : আমরা এতে জাহিলী যুগে খেলতামাশা উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেন : ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১১৩৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৩২১০ প্রভৃতি)
এ হাদীসের প্রেক্ষিতে আল্লামা ইব্ন তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন : “এ হাদীস প্রমাণ করে—এ দুই ঈদ ব্যতীত অন্য কোনদিন কোন উৎসব পালন করা মুসলমানদের জন্য জায়িয হবে না, তা হারাম হবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনায় পূর্বপ্রচলিত উৎসব বাতিল করে আল্লাহর কর্তৃক দুই ঈদ প্রদানের কথা বলেছেন। তিনি জাহিলী রীতি মোতাবেক তাতে খেলতামাশার উৎসব করার অনুমতি দেননি। এর দাবী হলো, পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ, বদল করার পর উভয় বস্তুকে জমা করা যায় না। বদল শব্দের অর্থ হলো–একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা।” (ফাইজুল কাদীর, ৪র্থ খণ্ড, ৫১১ পৃষ্ঠা)
তেমনিভাবে সূরাহ ফুরকানে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ বান্দাদের গুণাবলী উল্লেখ করেছেন, যাদেরকে তিনি রহমানের বান্দা বলে সম্বোধন করেছেন। তাদের একটি বিশেষ গুণ এই বর্ণনা করেছেন যে, তারা কখনো বিধর্মীদের উৎসবে যোগ দেন না। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗ
“আর যারা অমূলক উৎসবে উপস্থিত হয় না এবং যখন তারা অনর্থক বিষয়ের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করে, তখন নিজেদের সকীয়-সম্মান বজায় রেখে পথ অতিক্রম করে।” (সূরাহ ফুরকান, আয়াত নং ৭২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাবিয়ী মুহাম্মদ ইব্নে সিরীন, মুজাহিদ, রাবী ইবনে আনাস, ইকরিমা ও জাহহাক (রহ.) বলেন : “আয়াতে বর্ণিত ٱلزُّورَ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিধর্মীদের উৎসব। উক্ত আয়াতে মুসলমানদেরকে বিধর্মীদের উৎসবে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।”
হযরত আমর ইবনে মুররাহ (রহ.) বলেন : “এ আয়াতে বলা হয়েছে–“আল্লাহ-রাহমানের বান্দারা মুশরিকদের শিরকী কাজে শামিল হয় না এবং তাদের সাথে তাদের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে না।” (সুনানে সায়ীদ ইব্ন মানসুর, ২৭৯১ পৃষ্ঠা)
এমনকি আল্লামা ইব্নুল কায়্যিম জাওযী (রহ.) বলেন : “বিধর্মীদেরকে তাদের কুফরী উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোও হারাম। যেমন বলা যে, “অমুক পূজা সফল হোক”, “শুভ বড় দিন” অথবা এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ ব্যবহার করা নাজায়িয়। এভাবে কারো কুফরী উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো প্রকারান্তরে এসব কাজকে সমর্থন করার নামান্তর—যা ঈমানধ্বংসী কাজ। (আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১৩২ পৃষ্ঠা)
তেমনিভাবে বিধর্মীদের সাদৃশ্য কোনকিছু পালনও ইসলামে নিষিদ্ধ। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে (তাদের সাথে তার হাশর হবে)।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫১৪)
এ হাদীসের ব্যাখ্যা করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন :
مَنْ تَنَافَى أَرْضَ الأَعَاجِمِ فَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمَهْرِجَانِهِمْ حُشِرَ مَعَهُمْ
“যে ব্যক্তি বিজাতীয় দেশের অনুকরণ করে, অতঃপর তাদের নওরোজ ও মেহেরজান (নববর্ষ) উদযাপন করে, কিয়ামতের দিন তাকে তাদের সাথে উঠানো হবে।” (সুনানে বাইহাকী, ৩১৫ পৃষ্ঠা)
তাই মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে–ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ইসলামের নির্দেশিত পন্থায় জাতীয়ভাবে আনন্দ-উৎসব পালন করা। এ ছাড়া কোন বিজাতীয় ও বিধর্মী কালচারের উৎসব পালন করা মুসলমানদের জন্য জায়িয নয়। কারণ, তা দ্বীন ও ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আসুন, কাফের-বেদ্বীনদের অপসংস্কৃতির অনুসরণ ত্যাগ করে আমরা পূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিচ্ছেন :
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱدۡخُلُواْ فِي ٱلسِّلۡمِ كَآفَّةٗ وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٞ
“হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” ( সূরাহ বাকারা, আয়াত নং ২০৮)
জন্ম যাদের আজন্ম পাপ (সৌদি রাজতন্ত্রের কলুষিত ইতিহাস) –আল্লামা তানভীর হাসান আল-মাহমুদ।
সৌদি আরবের বর্তমান রাজধানী রিয়াদের নিকটে কৃষিপ্রধান এক গ্রাম দিরিয়া। ১৮ শতাব্দীর শুরুতে সে গ্রামের প্রধান হলেন আল সৌদ পরিবারের মুহম্মদ বিন সৌদ। একই সময়ে আরবে একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতার আবির্ভাব হয়।যিনি তৎকালীন ইসলামকে শিরক বিদাতে পরিপূর্ন বলে ইসলামকে আবার পরিশুদ্ধ করার কট্টর মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। তিনি হলেন ওয়াহাবী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব। এই ওয়াহাবী মতবাদে প্রভাবিত হয়ে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাব এর অনুসারী হয়ে যান মুহম্মদ বিন সৌদ। ওয়হাবী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তাঁরা দুজন একতাবদ্ধ হয়ে ওয়াহাবী মতবাদ ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চুক্তিবদ্ধ হন।
তারা ১৭৪৪ সালে দিরিয়া কে ‘দিরিয়া আমিরাত’ নাম দিয়ে প্রথম ওয়াহাবী মতবাদ ভিত্তিক ও সৌদ পরিবার নিয়ন্ত্রিত রাজ্য গঠন করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে শিরক-বিদাত চর্চার অভিযোগ এনে তারা জনগনকে তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর আহবান জানান ও উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেসময় আরবের অধিকাংশ জায়গা (মক্কা, মদিনা সহ) তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের শাসনাধীন ছিল। ঐক্যবদ্ধ মুসলিম উম্মাহর জন্য সবাই উসমানিয়া খলিফাকেই তাদের শাসনকর্তা হিসেবে মেনে নিত।
পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদ এর মৃত্যু হলে তার পুত্র আবদুল আজিজ বিন মুহম্মদ দিরিয়া আমিরাতের প্রধান হন। ক্ষমতায় এসে আব্দুল আজিজ তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা পেতে ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলান।
১৮০১ সালে আব্দুল আজিজ উসমানিয়া খিলাফতের কাছে থেকে ইরাক দখল করে নেন। দখল করেই শিরক বিদাতের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের কথা বলে হযরত আলী (রা) ও মহানবী (স) এর দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা) এর মাজার গুড়িয়ে দেন।
এতে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা চরম রুষ্ট হয়। ১৮০৩ সালে একজন শিয়া মুসলিম এর প্রতিশোধ নিতে আসরের নামযরত অবস্থায় আব্দুল আজিজ কে হত্যা করে। ক্ষমতায় আসেন আব্দুল আজিজের পুত্র সৌদ বিন আব্দুল আজিজ।
শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়ে যায়, তাই উসমানিয়া খিলাফতের শত্রু ব্রিটিশরা উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নতুন বাদশাহকে উৎসাহ দেয় এবং সহায়তার আশ্বাস দেয়। ক্ষমতার আসার ২ বছরের মধ্যে ব্রিটিশদের অস্ত্র ও অর্থের সহায়তায় সৌদ বিন আব্দুল আজিজ উসমানিয়া অনুগত শাসকের কাছ থেকে মক্কা ও মদিনা দখল করে নেন। তার বাহিনী শিরক-বিদাত উচ্ছেদের নামে মক্কা-মদিনার বহু মুসলিমকে হত্যা করে। এ কারনে তাকে কসাই নামেও ডাকা হত সেসময়। ওয়াহাবী মতবাদ অনুযায়ী ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযানের নামে বহু সাহাবীর কবরস্থান ধ্বংস করে।
বিঃদ্রঃ সাহাবা রাঃ গনের মাযার প্রচলিত মাযারের মত আগরবাতি-মুমবাতি জ্বালানো তাতে সেজদা করার মত কোনো শিরক-বেদয়াত ছিলনা।
#বরং কবরের পার্শ্বে ফলক ছিল যাতে সংক্ষিপ্ত আকারে সাহাবা রাঃ এর ইসলাম গ্রহণ ত্যাগ শিকার শাহাদাতের বর্ণনা এক কথায় তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ছিল। যা পড়ে সাধারণ মুসলিমদের জিহাদি প্রেরণা তৈরি হতো। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্পৃহা বেড়ে যেত।তাই ব্রিটিশদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিরকের নামে সাহাবা রাঃ গণের জীবনী সংবলিত মাযার গুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। এমনকি মহানবী (সা.)-এর কবরের মিম্বরগুলোও ভেঙে ফেলা হয়।
এসব ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮০৮ সালে তুরস্কের খলিফা ২য় মাহমুদ সৌদদের দমন করতে ইব্রাহিম পাশার নেতৃত্বে শক্তিশালী সেনা বাহিনী পাঠান। কিন্তু এবার পরাজয় হয় সৌদিদের। দীর্ঘ যুদ্ধ সমাপ্তের আগেই ১৮১৪ সালে মৃত্যু ঘটে সৌদ বিন আব্দুল আজিজের। ১৮১৮ সালে সৌদের পুত্র আবদুল্লাহ বিন সৌদ তুর্কিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। উসমানিয়া খলিফার নির্দেশে প্রকাশ্যে আব্দুল্লাহ বিন সৌদ ও তার দুই পুত্রের শিরোশ্ছেদ করা হয়।
শেষ হয় সৌদ পরিবার শাসিত প্রথম সৌদি রাজ্যের!
তবে শেষ হয়েও হল না শেষ এর মত ভবিষ্যত এর জন্য রয়ে গেল ক্ষমতা লোভিদের বিচ।
উসমানিয়া বাহিনীর হাতে সৌদ পরিবারের গ্রেফতারের সময় সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন আব্দুল্লাহ বিন সৌদ এর এক পুত্র। যার নাম ছিল তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ। গোপনে তিনি ওয়াহাবী মতবাদে বিশ্বাসী ও সৌদ পরিবারের প্রতি অনুগতদের সংগঠিত করতে থাকেন। ১৮২১ সালে সে প্রকাশ্যে তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৮২৪ সালে তুর্কি বিন আবদুল্লাহ দিরিয়া ও রিয়াদ দখল করে নেন। দিরিয়া ও রিয়াদ নিয়ে গঠন করা হয় নতুন ও দ্বিতীয় সৌদি রাজ্য ‘নজদ আমিরাত’। যার রাজধানী করা হয় রিয়াদকে।
কিন্তু এবার শুরু হয় সৌদি পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ক্ষমতার লোভে ১৮৩৪ সালে তুর্কি বিন আবদুল্লাহ কে হত্যা করে সৌদি পরিবারেরই একজন, মুশারি বিন আবদুর রহমান।কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ পায়নি মুশারি। সিংহাসন পেয়ে যান তুর্কি বিন আব্দুল্লাহর ছেলে ফয়সাল বিন তুর্কি। এরপর ছোটখাটো অন্তর্দ্বন্দ, একজনকে হটিয়ে আরেকজনের সিংহাসনের বসার মাধ্যমে বারবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও কোনরকম হত্যাকাণ্ড ছাড়াই মোটামুটি চলতে থাকে ২য় সৌদি রাজ্য নজদ আমিরাত। দীর্ঘদিন পর ১৮৯১ সালে উসমানিয়াদের অনুগত বাহিনীর কাছে পরাজয় হয় সৌদি বাহিনীর। তখনকার সৌদি পরিবারের প্রধান ও নজদ আমিরাতের শাসনকর্তা আব্দুল রহমান বিন ফয়সাল (ফয়সাল বিন তুর্কির পুত্র) পরিবারসহ পালিয়ে যান। আব্দুল রহমান ও তার পুত্র আব্দুল আজিজ বাহরাইনের বাদশাহের কাছে আশ্রয় নেন। সেখানে কিছুদিন থেকে চলে যান কুয়েতের আল সাবাহ রাজপরিবারে। আল সাবাহ রাজ পরিবার ছিল ব্রিটিশদের অনুগত। প্রকৃতপক্ষে বৃটিশদের কথামতোই চলতো তারা। ১৮৯৯ সালে ব্রিটিশদের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে কুয়েতের আমির শেখ মুবারক আল সাবাহ। ফলে পুরোপুরি বৃটিশ নিয়ন্ত্রিত রাজ্যে পরিণত হয় কুয়েত।
তুরস্কের উসমানিয়া শাসকদের সাথে ব্রিটিশদের ছিল দ্বন্দ্ব। ফলে ব্রিটিশদের নির্দেশে কুয়েতের রাজপরিবার আল সৌদদের অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করতে থাকে উসমানিয়াদের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে। সম্মুখ যুদ্ধে যাওয়ার মত শক্তি তখন না থাকায় চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে আল সৌদ বাহিনী। কিন্তু এতে রাজ্য ফিরে পাওয়ার মত বড় সাফল্য আসছিল না। ফলে সম্মুখ যুদ্ধে যাওয়ার আগ্রহ দেখান আবদুর রহমান বিন ফয়সাল। ১৯০১ সালে উসমানিয়াদের সাথে যুদ্ধ হয় আল সৌদদের। যা ইতিহাসে সারিফের যুদ্ধ নামে পরিচত। যুদ্ধে পরাজয় ঘটে আল সৌদদের। হতাশ আবদুর রহমান তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের আশা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু তার পুত্র আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ আবারও কুয়েতের আমির মুবারকের কাছে রিয়াদ আক্রমণের জন্য সহায়তা চায়। তখন রিয়াদ শাসন করতো উসমানিয়াদের অনুগত আল রশিদি পরিবার। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে উট, ঘোড়া ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে কুয়েত। ১৯০২ সালের ১৩ জানুয়ারি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ সৈন্য নিয়ে রিয়াদ আক্রমণ করে। রিয়াদের মাসমাক দুর্গে যুদ্ধে জয়লাভ করে ইবনে সৌদ। রাশিদী প্রশাসক ইবনে আজলানকে হত্যা করে ছিন্নমস্তকটি নিয়ে রিয়াদবাসীর দিকে দিকে ছুঁড়ে মেরে নিজেকে রিয়াদের শাসনকর্তা হিসেবে ঘোষণা করে ইবনে সৌদ।
রাজ্যের নাম দেয়া হয় রিয়াদ আমিরাত। ইতিহাসে তৃতীয় সৌদি রাজ্যের সূচনা হয়। এবং এই ৩য় সৌদি রাজ্যের এখনও পতন হয়নি।
এর পর আল সৌদরা একে একে নজদের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করতে থাকে। ১৯০৭ সালের মধ্যে বিশাল সাম্রজ্যের অধিকারী হয় সৌদরা। ১৯০৯ সালে ইবনে সৌদ ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হেনরী শেক্সপিয়ারকে (নামে মিল দেখে কবি শেক্সপিয়ার ভেবে ভুল করবেন না) তার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে আরো শক্তিশালী হয় আল সৌদ রাজপরিবার। ১৯১৩ সালে সৌদিরা পূর্ব আরবের গুরুত্বপূর্ণ মরুদ্যান হাসা ও কাতিফ শহর দখল করে নেয়।
এর এক বছর পরেই ১৯১৪ সালে শুরু হয় ১ম বিশ্বযুদ্ধ। যে যুদ্ধে তুরস্কের উসমানিয়ারা পক্ষ নেয় জার্মানির। যাদের বিপক্ষে ছিল ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্স।
বিশ্বযুদ্ধের ‘প্রক্সি ওয়ার’ হিসেবে উসমানিয়াদের দুর্বল করতে ব্রিটিশরা শেক্সপিয়ারের মাধ্যমে সৌদদের দিয়ে আরবের উসমানিয়া সমর্থক রশিদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করায়। কিন্তু যুদ্ধে হেরে যায় সৌদরা। শিরোশ্ছেদ করা হয় শেক্সপিয়ারের। শেক্সপিয়ারের মৃত্যুতে ব্রিটিশদের সাথে সৌদদের সম্পর্কে দুরুত্ব বাড়তে থাকলে ইবনে সৌদ চিন্তিত হয়ে পড়েন। চিন্তিত ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেন। যা দারিন চুক্তি নামে পরিচত। চুক্তি মোতাবেক রিয়াদ মূলত ব্রিটিশদের করদরাজ্যে পরিণত হয়। ব্রিটিশরা রিয়াদের নিরাপত্তা দেয়ার অঙ্গীকার করে ও ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত কুয়েত, কাতার ও ওমান এর নিরাপত্তায় সৌদরা সহায়তা করার আশ্বাস দেয়। এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি রাজ্য প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
সৌদদের সাথে ব্রিটিশদের এ চুক্তিতে ভীত হয়ে ওঠেন মক্কার শাসক উসমানিয়া অনুগত হুসেন বিন আলী। এদিকে বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক-জার্মানি পক্ষের কোনঠাসা অবস্থা দেখে ভীত হুসেন বিন আলী মিশরে অবস্থানরত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি ম্যাকম্যাহনের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। ম্যাকমোহন হুসেন কে নানা প্রলোভন দিয়ে উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলে। বাংলার মীর জাফরের মত ভুমিকা নেন হুসেন বিন আলী। ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্সের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় বিশ্বাসঘাতক হুসাইন মিডল-ইস্টার্ন ফ্রন্টে উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু করলে
ব্রিটিশ সামরিক অফিসার কর্নেল টি.ই. লরেন্স ছিলেন বিশ্বযুদ্ধের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশদের প্রধান। তার নেতৃত্বে যুদ্ধে হুসেন বিন আলী উসমানিয়াদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে অসংখ্যা উসমানিয়া সৈন্য বন্দী হয় এবং উসমানিয়ারা ১ম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়। ১৩০০ বছর পর মুসলিম বিশ্বে খিলাফতের পতন ঘটে! এই টি.ই. লরেন্সকে নিয়ে হলিউডে “Lawrence of Arabia” (১৯৬২) নামে মুভি নির্মিত হয়।
বিশ্বাসঘাতকার পুরস্কার হিসেবে ব্রিটিশরা হুসেন বিন আলীর এক পুত্র আব্দুল্লাহকে জর্ডানের রাজত্ব ও আরেক পুত্র ফয়সালকে ইরাকের রাজত্ব দেয়। হুসেন বিন আলীকে রাখা হয় মক্কা, মদিনা ও তাবুক এর শাসক হিসেবে।
এতে হতভম্ব হয়ে যায় আল-সৌদ রাজ পরিবার। তাদের চেয়েও কেউ ব্রিটিশদের পক্ষে দালালীতে এগিয়ে যাবে সেটা তারা কল্পনা করতে পারেনি।
যদিও দারিন চুক্তির আওতায় রিয়াদ এর শাসক আল-সৌদরাই থেকে যায়। এবং নিয়মিত অস্ত্র পেতে থাকে ও প্রতিমাসে ৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড ভাতা পেতে থাকে। সেই সাথে বিশ্বযুদ্ধের উদ্বৃত্ত গোলাবারুদের বড় একটা অংশ পায় সৌদরা। এইসব অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে পর্যায়ক্রমে পরাজিত উসমানিয়াদের অনুগত শাসক রশিদীদের আক্রমণ করতে থাকে ও বিভিন্ন এলাকা দখল করতে থাকে। ১৯২২ সালের মধ্যে মক্কা মদিনা ও তাবুক ব্যাতীত আরবের প্রায় সকল অঞ্চল আল-সৌদদের অধীনে চলে আসে। মক্কা মদীনা ও তাবুকে ব্রিটিশ সমর্থিত হুসেন বিন আলী শাসক থাকায় সেখানে আক্রমণ করে নি তারা।
এদিকে খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটিয়ে তুরস্কের শাসন ক্ষমতায় আসে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক। এবার যেন টনক নড়ে হুসেন বিন আলীর। মহানবী (সা.) আমল থেকে ১৩০০ বছর পর্যন্ত চলমান খিলাফতের এই পতন সারা বিশ্বের মুসলিমদের মত তিনিও সহজে মেনে নিতে পারছিলেন না। পৃথিবী থেকে খিলাফত মুছে যাবে এটা মেনে নিতে তার ধর্মীয় অনুভূতি প্রবল আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাই ব্রিটিশরা চরম ক্ষিপ্ত হবে জেনেও বড় অসময়ে তাদের বিপক্ষে গিয়ে হুসেন বিন আলী নিজেকে মুসলিমদের খলিফা ঘোষণা করেন।
স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন ধরে খিলাফতের শত্রু ব্রিটিশরা চরম রুষ্ট হয়। হুসেন বিন আলীর উপর থেকে সকল সমর্থক প্রত্যাহার করে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে মক্কা মদিনা ও তাবুক দখল করে নিতে বলে। আল সৌদ বাহিনী হেজাজ (মক্কা ও মদিনা) আক্রমণ করে এবং হেজাজ দখলে নিয়ে নেয়। ১৯২৬ সালের ৮ জানুয়ারি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ নিজেকে হেজাজের শাসক ঘোষণা করেন। ১৯২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি ইবনে সৌদ আগের রিয়াদ (নজদ) ও বর্তমান মক্কা-মদিনা (হেজাজ) নিয়ে Kingdom of Nejd and Hejaz ঘোষণা করে। মুসলমানদের পবিত্র ভূমিতে এভাবেই শাসন শুরু করে ব্রিটিশ আমেরিকার দালাল আল-সৌদ পরিবার। কায়েম হয় ইসলাম পরিপন্থী রাজতন্ত্র।
১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আল সৌদ বংশের নাম অনুসারে দেশের নতুন নাম রাখা হয় “Kingdom of Saudi Arabia” (কিংডম অব সৌদি এরাবিয়া)।
সৌদি রাজাগনের মধ্যে বাদশাহ ফয়সাল ছিলেন আল্লাহ ভিরু এবং মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যদ্ধ করার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এদের অন্যান্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
সৌদি মুলকান জাবরিয়্যাগণ জন্মলগ্ন থেকেই ব্রিটিশ পরবর্তিতে আমেরিকার পদলেহন করে আসলেও বর্তমান বাদশাহ সালমান ও তার ইয়াহুদিবাদি পুত্র ক্ষমতার লোভে সকলকে ছাড়িয়ে ইসরাইলের পদলেহনের বিনিময়ে, মাসজীদুল আক্বসা,এমনকি পুরো মুসলিম উম্মাহকে জলাঞ্জলি দেয়ার ভয়ঙ্কর হায়েনার বিভৎস উৎসবে মেতে উঠেছে! ধিক্কার ওদের প্রতি।








