কাদিয়ানিদের ইজতেমা বন্ধের দাবীতে দুধল পীর সাহেবের খোলা চিঠি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম
মুহতারাম, মুসলিমের নিকট সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ তার ঈমানকে হিফাজত করা। আমাদের ক্বালিমা ও ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা’লার সর্বশেষ প্রেরিত নবী ও রাসুল। তার পরে কোনো নবী আসবেনা। সমস্ত আলেমদের ঐক্যমতের ফতোয়া হলো কোনো ব্যক্তি নিজেকে নবী দাবি করলে সে মিথ্যুক ও কাফির তাকে নবী হিসেবে প্রকাশ্য বা মৌন সমর্থন দিলে তিনিও কাফির।
আপনার নিশ্চয়ই অবগত আছেন ইসলামের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ভারতের কাদিয়ানের এক গোলাম আহমাদ নামক এক কুখ্যাত কাফির নিজেকে নবী দাবি করে এবং তার দলকে আহমদিয়া মুসলিম জামাত নাম দেয়। যার প্রেক্ষিতে বিশ্বের ওলামাগণ তাকে ও তার অনুসারীদের কাফির ঘোষণা করে।তার মিথ্যা নবুয়্যতের বিরুদ্ধে অসংখ্য দালিলিক বই বের হয়
এবং বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে।
কাদিয়ানিদের মিশনের কারণে বাংলাদেশই হাজার হাজার মুসলিম ঈমানহারা হচ্ছে যার ফলে বাংলাদেশের মুসলিম জনতা কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু স্যেকুলারদের ষড়যন্ত্রে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি যা আমাদের হৃদয়ে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণের কারণ।
তাই কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে এদেশের আলেম-ওলামা ও জনসাধারণের সচেতনতার কারণে তারা এতদিন গোপনে মানুষকে ঈমানহারা করত। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বর্তমানে কাদিয়ানীরা হঠাৎ মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে এবং আগামী ২২,২৩,২৪ ফেব্রুয়ারী পঞ্চগরে ইজতেমা বা কাদিয়ানী জমায়াতের ঘোষণা দিয়েছে যা মুসলিম উম্মাহর ঈমান ও আক্বীদার উপরে আঘাত। যা বন্ধে স্বস্ব অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলা ঈমানি দ্বায়িত্ব।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন কাদিয়ানিদের অপতৎপরতা রোধে দুধল দরবার শরীফ জোড়ালো ভূমিকা রেখে আসছে। দুধলের মরহুম শায়েখ শাইখুল ইসলাম শাহ মুহাঃ আব্দুল ওয়াহিদ রহঃ “রদ্দে কাদিয়ানী” কিতাব লিখে মুসলিম উম্মাহ’র ঈমান ও আক্বিদা হিফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাই দুধল দরবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি উদাত্ত্ব জানাচ্ছি যাতে ৯২ ভাগ মুসলিমের আক্বিদায় আঘাত হানা এই কাদিয়ানী সমাবেশ অনতিবিলম্বে নিষদ্ধ করণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হোক।
সম্মানিত ইমামদের প্রতি আহবান আগামী ১৫ /০২/১৯ তারিখের জুম’আয় “খতমে নবুয়্যত ও কাদিয়ানিবাদ” বিষয়ে খুৎবা প্রদানকরে দল-মত ছেলছেলার উর্ধ্বে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার আহবান জানাচ্ছি।
পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের সকল শিক্ষার্থীদের ও মুসলিম জনতাকে স্ব স্ব অস্থান থেকে কাদিয়ানী ইজতেমা বিরোধী যে কোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহন ও সর্বাত্মক সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ইতি
মুফতি শাহ মুহাঃ সাইফুল্লাহ
পীরসাহেব দুধল দরবার শরীফ,
বাকেরগঞ্জ, বরিশাল
দুধল দরবার শরীফে আজিমুশ্বান মাহফিল
আসসালামু আলাইকুম।
আগামী ১৯,২০ ও ২১শে ফেব্রুয়ারি দুধল পীর সাহেবের দরবার শরীফে ৭৫ তম বাৎসরিক আজিমুশ্বান মাহফিল ও তালীমি জলসা অনুষ্ঠিত হবে।পূর্ণাঙ্গ দ্বীন বিশেষত ইলমে তাছাওউফ শিক্ষার ফরজ আদায় করার জন্য উক্ত মাহফিলে দলে দলে যোগদান করুন।
মহান বিজয় দিবস
জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের বিজয়ের এ মহান দিনে স্মরণ করছি যারা এ বিজয়ের পথে আত্মত্যাগ করেছেন।
বিশেষ করে অখন্ড স্বাধীন বঙ্গভূমির সর্বশেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদৌলার কাছ থেকে মীর জাফর আলী খানের বিশ্বাস ঘাতকতার সুযোগে রক্তচোষা বিশ্বখুনি #ইংরেজরা পলাশির আম্র কাননে বঙ্গ স্বাধীনতার সুর্যকে গলাটিপে ধরে যে স্বাধীনতাকে খুনকরে ছিল। তা থেকে মুক্তি পেতে লাখো আলেম,সাধারণ মুসলমান ও স্বাধীনতা প্রেমীদের রক্তের স্রোত প্রথমে স্বাধীনতার ভিত্তি এনে দিয়েছিল। ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে কিন্তু এদেশের মেহনতি মানুষের রক্তচোষা জমিদার শ্রেণি কলকাতার দাদাদের ষড়যন্ত্রে ১৯১১ তে সে স্বাধীতার স্বপ্নকে খুন করার (অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ রদ) মাধ্যমে প্রথম আঘাত আসে। অতঃপর দেশ বিভাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার যাত্রা গতি পেয়ে ২৩ বছরের অর্থনৈতিক,সামাজিক,মানবিক বৈষম্যকে ছিন্ন করতে ১৯৭১ এ মুক্তি সংগ্রামের চুরান্ত সূচনা যা স্বশস্ত্র সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তিম পথ পেড়িয়ে বহু আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পূণরায় বাংলার আকাশে ওঠে স্বাধীনতার পূর্ণ সূর্য।
তাই আবারো স্মরণ করছি ১৭৫৭ এর ২৩শে জুন পলাশির আম্র কানন থেকে একাত্তরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত বাংলাকে স্বাধীন করার নিমিত্তে সকল আত্মত্যাগীদের।
শ্রেষ্ঠ বাংলা ওয়াজ
ফরজে আইনের সিলেবাসে সকল মুসলমন থাকবে এক প্লাটফর্মে
মুফতি শাহ্ মুহাঃ শরিয়াতুল্লাহ সাহেব।
সাহাবীদের নামাজ
হযরত হাতেম আছাম্ (রাঃ) কে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কিভাবে নামাজ পড়েন?”
তদুত্তরে তিনি বলিলেন, “নামাজের সময় হইলে আমি অজু করতঃ কিছুক্ষণ জায়নামাজে বসিয়া থাকি, যেন
দৈহিক অস্থিরতা সম্পূর্ণরূপে দূর হইয়া যায়। তারপর নামাজে দাঁড়াই, তখন মনে করি আল−াহ্র ঘর আমার
সম্মুখে, পুলসিরাত আমার পায়ের নীচে, ডান দিকে বেহেশ্ত ও বাম দিকে দোজখ, আমার পশ্চাতে মালাকুল
মউত দন্ডায়মান, আর হয়ত ইহাই আমার জীবনের শেষ নামাজ। এমনি একাগ্রতা ও ভাবাতুর অন্তর লইয়া
আমি নামাজ শেষ করি।’’







